বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফলাফল যাই হোক না কেন, তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
”আমি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই-নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন,” বলেন তিনি।
আজ সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ”এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না— একই সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।”
তিনি সবাইকে নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে।
”এই সনদের মাধ্যমে আমরা সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি। তবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ-এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত,” ভাষণে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ”এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।”
সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা
টিটিএন ডেস্ক: 






















