বাংলাদেশের তরুণদের সামনে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—পড়াশোনা শেষ করে কী করা উচিত? চাকরি, ব্যবসা নাকি বিদেশে পাড়ি জমানো? এই প্রশ্নগুলোর গভীরে লুকিয়ে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। ডিগ্রি নয়, স্কিলই আজ তরুণদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
এক সময় ভালো রেজাল্ট মানেই ভালো ভবিষ্যৎ—এই ধারণাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে আর এগোনো সম্ভব নয়। চাকরির বাজার, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ছোট উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই এখন স্কিলই সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্কিল শেখার প্রধান সুবিধাসমূহ
১. কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি
স্কিল শেখার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আয়ের একাধিক পথ তৈরি হওয়া। একজন তরুণ যদি ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডাটা অ্যানালাইসিস, সেলস বা ট্রেড–ভিত্তিক কোনো স্কিল অর্জন করে, তাহলে সে শুধু একটি চাকরির উপর নির্ভরশীল থাকে না। চাকরি না পেলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে, ছোট উদ্যোগ শুরু করতে পারে কিংবা অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
২. নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস
স্কিল থাকলে একজন তরুণ কেবল চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে অপেক্ষা করে না। সে জানে—আমি কিছু করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাসই অনেক সময় জীবনের গতিপথ বদলে দেয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
বিশ্ববাজার ও প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। স্কিল থাকলে নতুন সুযোগ গ্রহণ করা সহজ হয়। যারা নিয়মিত স্কিল আপডেট করছে, তারা ভবিষ্যতের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে।
স্কিল শেখার পথে সীমাবদ্ধতা
স্কিল শেখার পথ সীমাবদ্ধতা
অনেক তরুণই জানে না—কোন স্কিলটি তার জন্য উপযুক্ত। কেউ ভুল কোর্স বেছে নিয়ে সময় ও অর্থ নষ্ট করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান ভালো না হওয়ায় বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয় না।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ধৈর্যের অভাব। স্কিল শেখা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। প্রথম কয়েক মাস আয় না হলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং মাঝপথে শেখা বন্ধ করে দেয়।
সরকারি উদ্যোগ ও সুযোগ
বাংলাদেশ সরকার স্কিল ডেভেলপমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেমন—
আইসিটি ডিভিশনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্কিলভিত্তিক কোর্স
ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি–ভিত্তিক ট্রেনিং সেন্টার
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক তরুণ বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে স্কিল শেখার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু সরকার–সমর্থিত প্রকল্পে প্রশিক্ষণের সাথে ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্ট সাপোর্টও দেওয়া হচ্ছে, যা তরুণদের জন্য বড় সুযোগ।
বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন কমিউনিটিও স্কিল শেখার সুযোগ তৈরি করছে। অনলাইন কোর্স, ইউটিউব, ফেসবুক গ্রুপ, লাইভ ওয়ার্কশপ—সব মিলিয়ে শেখার সুযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।সমস্যা সুযোগের অভাবে নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিকতার অভাবে।
আজকের তরুণদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হলো নিজের উপর বিনিয়োগ। টাকা হারালে আবার আয় করা যায়, কিন্তু সময় চলে গেলে আর ফিরে আসে না। স্কিল শেখা শুধু আয় বাড়ানোর মাধ্যম নয়—এটি আত্মসম্মান, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার পথ।
ডিগ্রি প্রয়োজন, কিন্তু স্কিল ছাড়া ডিগ্রি অসম্পূর্ণ।
যে তরুণ আজ স্কিল শেখায় সময় দিচ্ছে, সে আগামীকাল সুযোগ তৈরি করবে—নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্যও।
লেখক: নাছির আহম্মদ সাজিদ,উদ্যোক্তা,ফাইনান্স স্টুডেন্ট,সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।
নাছির আহম্মদ সাজিদ 






















