ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা মামলার আসামীকে দিয়ে  সিআইসির শতাধিক ঘর নির্মাণ!

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলোচিত ‘সিক্স মার্ডার’ এর ঘটনার প্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর ২০২১ সালে উখিয়া থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ নং আসামী হাফেজ সানাউল্লাহ। ক্যাম্পে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত এই সানাউল্লাহর মাধ্যমে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্যে শতাধিক নতুন ঘর বানিয়ে নিয়েছেন ক্যাম্প-ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম।

প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি পত্র বলছে, গত বছরের ১২ই নভেম্বর ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি মিনহাজুল ইসলামের কাছ থেকে ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রী ক্যাম্পে প্রবেশ করানোর জন্য সানাউল্লাহ অনুমতি নেন। সানাউল্লাহ স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়,’ আমার আত্মীয় প্রবাসি ভাই মৌলানা আব্দুর রশিদ যাকাতের টাকায় অত্র ক্যাম্পের ৯০টি অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারের ঘর মেরামতের জন্য নিম্নোক্ত মালামাল সমূহ বিতরণের ইচ্ছা পোষন করেছেন।’

নির্মাণ সামগ্রীর সেই তালিকায় ছিলো – ২০০ টি বরাক বাঁশ, মুলি বাঁশ ৫০০০ টি, টারপলিন (ত্রিপল) ৭০ টি, রশি ২১০ কেজি ও জিআই তার ১০৫ কেজি। তবে এই তালিকায় পরিমাণ থাকলেও পণ্যের দাম উল্লেখ করা হয়নি।

এসব সামগ্রীর বাজারমূল্য ও মজুরি ব্যয় আনুমানিক হিসেব করলে প্রতি ঘর পিছু খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।  যদি ৯০ টি ঘর হয় তাহলে এই নির্মাণযজ্ঞে কমপক্ষে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

অনুদানের উৎস কোথায়?

এবিষয়ে সানাউল্লাহ’কে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে  তুরস্ক থেকে তার আত্মীয় টাকা পাঠিয়েছেন এবং তিনি শুধু মাধ্যম হিসেবে ঘর নির্মাণে সহায়তা করেছেন। তথ্য দিতে অপারগতা দেখিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ আপনার যা জানার সিআইসি স্যার থেকে জেনে নিন, আমি আর কিছু বলতে পারবো না আমাকে বিরক্ত করবেন না।’

সানাউল্লাহকে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘ আপনারা জানেন এখন ফান্ড ক্রাইসিস চলছে তাই অনুমতি দিয়েছি। উনি উনার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আত্মীয়ের মাধ্যমে যাকাতের টাকায় ঘরগুলো মেরামত করে দিয়েছেন।’

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ব্যয়কৃত বিপুল অংকের কথিত অনুদানের অর্থ এলে কোত্থেকে? অস্ট্রেলিয়া নাকি তুরস্ক এবং বৈধ কোন মাধ্যমে এসেছে কিনা?

সরজমিন অনুসন্ধানে যা জানা গেল

মিয়ানমারের মংডু থেকে ২০১৭ সালের আগস্টে মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে সানাউল্লাহ প্রকাশ মুহতেম সাহেব পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসেন।  একসময় বালুখালী ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৭২ ব্লকে বাস করলেও ২০২১ সালের সিক্স মার্ডারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে সানাউল্লাহ বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী ১৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৭৭ ব্লকে বাস করছেন বলে জানা গেছে।

গত ২ মাসে ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল-১৭ ব্লকে ৭৫ টি এবং এল-১৮ ব্লকে ১৫ টি ঘর  নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সানাউল্লাহ’র পছন্দের লোকজন এসব ঘর পেয়েছেন এবং তিনি আরো ঘর নির্মাণ করে দিবেন বলে ক্যাম্পে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।

ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ সলিম বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে তুরস্ক থেকে একদল মানুষ এসে ঘরগুলো দেখে গেছে, শুনেছি তাদের টাকায় সানাউল্লাহ ঘরগুলো বানিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি তাদের মাধ্যমে আরো ঘর দিবেন বলেছেন।’

ঘর পাওয়া এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘ আমার পরিবার নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল, এক ভাইয়ের মাধ্যমে সানাউল্লাহর সহযোগিতায় এই ঘর পেয়েছি।’

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সূত্র বলছে, ঘরপ্রাপ্তদের তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশ্নবিদ্ধ অনুদানে পুরো কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে সানাউল্লাহকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা করেছেন সিআইসি কার্যালয়ের কেয়ার এন্ড মেইনটেইনেন্স অফিসার (সিএমও) এনাম মোহাম্মদ শরীফ।

এরআগেও  ‘ঘরবিক্রি’ করে শরীফের  অবৈধ অর্থ আয়ের অভিযোগ উঠেছিল, গণমাধ্যমে এবিষয়ে প্রতিবেদন আসার পাশাপাশি তদন্ত হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।

অধীনস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে অনিয়ম হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘ আপনি খবর নিয়ে দেখতে পারেন আমি দায়িত্বরত আরেকটি ক্যাম্প-১২ তে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে কয়েকজনকে বরখাস্ত করেছি। এখানেও যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সানাউল্লাহ হত্যা মামলার আসামী এবং বিতর্কিত হওয়া স্বত্ত্বেও কিভাবে অনুমোদন পেল? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ ঘর নির্মাণের পরে শুনেছি উনি হত্যা মামলার আসামী, এখানে কোন অনিয়ম হলে খতিয়ে দেখা হবে।’

অনুদানের স্বচ্ছতা কিংবা তহবিল সংগ্রহের নামে একটি প্রকল্প দেখিয়ে বহু অনুদানদাতার সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে সিআইসি বলেন, ‘ বিষয়টি এখন জানলাম এরকম করলেতো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই কোন প্রতারণা বা জালিয়াতি থাকলে তো শাস্তি পেতে হবে।’

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানকে একাধিক ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এখন দেখার বিষয়, ক্যাম্প প্রশাসনের হেয়ালিপনায় এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে কি ব্যবস্থা নিবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা মামলার আসামীকে দিয়ে  সিআইসির শতাধিক ঘর নির্মাণ!

আপডেট সময় : ০৭:১৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলোচিত ‘সিক্স মার্ডার’ এর ঘটনার প্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর ২০২১ সালে উখিয়া থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ নং আসামী হাফেজ সানাউল্লাহ। ক্যাম্পে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত এই সানাউল্লাহর মাধ্যমে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্যে শতাধিক নতুন ঘর বানিয়ে নিয়েছেন ক্যাম্প-ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম।

প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি পত্র বলছে, গত বছরের ১২ই নভেম্বর ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি মিনহাজুল ইসলামের কাছ থেকে ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রী ক্যাম্পে প্রবেশ করানোর জন্য সানাউল্লাহ অনুমতি নেন। সানাউল্লাহ স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়,’ আমার আত্মীয় প্রবাসি ভাই মৌলানা আব্দুর রশিদ যাকাতের টাকায় অত্র ক্যাম্পের ৯০টি অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারের ঘর মেরামতের জন্য নিম্নোক্ত মালামাল সমূহ বিতরণের ইচ্ছা পোষন করেছেন।’

নির্মাণ সামগ্রীর সেই তালিকায় ছিলো – ২০০ টি বরাক বাঁশ, মুলি বাঁশ ৫০০০ টি, টারপলিন (ত্রিপল) ৭০ টি, রশি ২১০ কেজি ও জিআই তার ১০৫ কেজি। তবে এই তালিকায় পরিমাণ থাকলেও পণ্যের দাম উল্লেখ করা হয়নি।

এসব সামগ্রীর বাজারমূল্য ও মজুরি ব্যয় আনুমানিক হিসেব করলে প্রতি ঘর পিছু খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।  যদি ৯০ টি ঘর হয় তাহলে এই নির্মাণযজ্ঞে কমপক্ষে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

অনুদানের উৎস কোথায়?

এবিষয়ে সানাউল্লাহ’কে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে  তুরস্ক থেকে তার আত্মীয় টাকা পাঠিয়েছেন এবং তিনি শুধু মাধ্যম হিসেবে ঘর নির্মাণে সহায়তা করেছেন। তথ্য দিতে অপারগতা দেখিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ আপনার যা জানার সিআইসি স্যার থেকে জেনে নিন, আমি আর কিছু বলতে পারবো না আমাকে বিরক্ত করবেন না।’

সানাউল্লাহকে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘ আপনারা জানেন এখন ফান্ড ক্রাইসিস চলছে তাই অনুমতি দিয়েছি। উনি উনার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আত্মীয়ের মাধ্যমে যাকাতের টাকায় ঘরগুলো মেরামত করে দিয়েছেন।’

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ব্যয়কৃত বিপুল অংকের কথিত অনুদানের অর্থ এলে কোত্থেকে? অস্ট্রেলিয়া নাকি তুরস্ক এবং বৈধ কোন মাধ্যমে এসেছে কিনা?

সরজমিন অনুসন্ধানে যা জানা গেল

মিয়ানমারের মংডু থেকে ২০১৭ সালের আগস্টে মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে সানাউল্লাহ প্রকাশ মুহতেম সাহেব পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসেন।  একসময় বালুখালী ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৭২ ব্লকে বাস করলেও ২০২১ সালের সিক্স মার্ডারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে সানাউল্লাহ বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী ১৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৭৭ ব্লকে বাস করছেন বলে জানা গেছে।

গত ২ মাসে ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল-১৭ ব্লকে ৭৫ টি এবং এল-১৮ ব্লকে ১৫ টি ঘর  নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সানাউল্লাহ’র পছন্দের লোকজন এসব ঘর পেয়েছেন এবং তিনি আরো ঘর নির্মাণ করে দিবেন বলে ক্যাম্পে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।

ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ সলিম বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে তুরস্ক থেকে একদল মানুষ এসে ঘরগুলো দেখে গেছে, শুনেছি তাদের টাকায় সানাউল্লাহ ঘরগুলো বানিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি তাদের মাধ্যমে আরো ঘর দিবেন বলেছেন।’

ঘর পাওয়া এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘ আমার পরিবার নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল, এক ভাইয়ের মাধ্যমে সানাউল্লাহর সহযোগিতায় এই ঘর পেয়েছি।’

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সূত্র বলছে, ঘরপ্রাপ্তদের তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশ্নবিদ্ধ অনুদানে পুরো কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে সানাউল্লাহকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা করেছেন সিআইসি কার্যালয়ের কেয়ার এন্ড মেইনটেইনেন্স অফিসার (সিএমও) এনাম মোহাম্মদ শরীফ।

এরআগেও  ‘ঘরবিক্রি’ করে শরীফের  অবৈধ অর্থ আয়ের অভিযোগ উঠেছিল, গণমাধ্যমে এবিষয়ে প্রতিবেদন আসার পাশাপাশি তদন্ত হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।

অধীনস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে অনিয়ম হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘ আপনি খবর নিয়ে দেখতে পারেন আমি দায়িত্বরত আরেকটি ক্যাম্প-১২ তে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে কয়েকজনকে বরখাস্ত করেছি। এখানেও যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সানাউল্লাহ হত্যা মামলার আসামী এবং বিতর্কিত হওয়া স্বত্ত্বেও কিভাবে অনুমোদন পেল? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ ঘর নির্মাণের পরে শুনেছি উনি হত্যা মামলার আসামী, এখানে কোন অনিয়ম হলে খতিয়ে দেখা হবে।’

অনুদানের স্বচ্ছতা কিংবা তহবিল সংগ্রহের নামে একটি প্রকল্প দেখিয়ে বহু অনুদানদাতার সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে সিআইসি বলেন, ‘ বিষয়টি এখন জানলাম এরকম করলেতো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই কোন প্রতারণা বা জালিয়াতি থাকলে তো শাস্তি পেতে হবে।’

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানকে একাধিক ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এখন দেখার বিষয়, ক্যাম্প প্রশাসনের হেয়ালিপনায় এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে কি ব্যবস্থা নিবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়?