ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মসজিদের কক্ষে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উখিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নিহত প্রায় ৯০ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চ্যালেঞ্জ শনাক্তে কক্সবাজারে যাচ্ছে ইসি মহেশখালীতে ড্রেন নির্মাণকাজে ডাম্পারের ধাক্কা, শ্রমিক নিহত টেকনাফে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মাঝি আটক কক্সবাজারে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে গর্জনিয়ায় সোহেলের বসতঘর থেকে মিললো ১ লাখ পিস ইয়াবা : এলাকায় চাঞ্চল্য কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক-রিলস নিষিদ্ধ, নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির সতর্কতা বাবার নামে হোটেল ‘সায়মন’ নামকরণ করেছিলেন ইঞ্জি. মোশাররফ

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদের কক্ষে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।