আজ ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস, অথচ এদিনেই পুড়ছে উপকূলের রক্ষাকবচ প্যারাবন। মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় গতকাল (৪ জুন) ও আজ শুক্রবার (৫ জুন) দিনেদুপুরে প্যারাবন জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
জানা যায়, ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করে চিংড়িঘের ও লবণ মাঠে রূপান্তর করতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল প্যারাবন নিধনের সাথে জড়িত। এই নিয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে বনবিভাগ কে সাথে নিয়ে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছিল চলতি বছরের গত মার্চ ও এপ্রিলের প্রথমদিকে।
সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় প্রায় ৫ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন দখল ও উজাড়ের ঘটনায়, ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ এনে গত ২ এপ্রিল বন বিভাগের ঘটিভাঙ্গা বিট কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) বিভাষ কুমার বাদী হয়ে– ৩০ জনকে আসামি করে, মহেশখালী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউপি সদস্যসহ অনেকেই আসামি রয়েছেন।
স্থানীয় মহেশখালী গোরকঘাটা রেঞ্জের আওতায় ৪২ হাজার ২৯৪ একর প্যারাবন রয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দশকে প্রায় ৯ লাখ বাইন ও কেওড়াগাছ কাটা পড়েছে এবং ৫ হাজার একরের বেশি বনভূমি বেদখলে চলে গেছে। যা স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহল প্যারাবন নিধন করে দখল করেছে।
স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করে বলেন—’মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান বা মামলা দায়ের করলেও প্রকৃত প্রভাবশালী ‘রাঘববোয়ালরা’ আড়ালেই থেকে যায় এবং সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হয়। প্রশাসনের এই নামেমাত্র অভিযানকে আই ওয়াশ বলছেন পরিবেশবাদীরা।
সম্প্রতি কুতুবজোমের ঘটিভাঙ্গায় দিনে-দুপুরে প্যারাবনে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহেশখালী (গোরকঘাটা) রেঞ্জ কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর নেতৃবৃন্দরা বলছেন ‘পরিবেশ দিবস আর পরিবেশ নিধন দুটো এক সাথে চলতে পারে না। মহেশখালীতে বনবিভাগ ও প্রশাসনের উদাসীনতায় দুটো একসাথে চলছে’।
কাব্য সৌরভ, মহেশখালী: 
























