ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি! সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি— লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি জানাজায় কান্নার কলরবে ইয়াসেরের বিদায় লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’ চার-পাঁচ মাসের ম‌ন্ত্রিত্বের অ‌ভিজ্ঞতায় দে‌খে‌ছি, কিছুই বদলায়নি: মির্জা ফখরুল। রামুতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড পেকুয়ায় আগুনে পুড়লো পাঁচ ভাইয়ের বসতঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া ও মাতামুহুরির ২০০ পরিবারের পাশে উইটনেস ফাউন্ডেশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন ইনানীর বে-ওয়াচ রিসোর্টের কর্মচারী আব্দুল আজিজের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য: কি বলছে পুলিশ? অপহরণ-মানবপাচার বন্ধে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে টেকনাফ-উখিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা

  • সিয়াম সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • 53

টেকনাফের বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ছয় বছর পূর্ণ হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষিত হলেও মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর-বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর সিনহা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আরও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। তবে আসামিপক্ষ আপিল করায় মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টিটিএনকে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রদীপকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা সত্য প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে চূড়ান্ত রায় দ্রুত কার্যকর হলেই তারা প্রকৃত স্বস্তি পাবেন।

তিনি বলেন, গত ছয় বছর তাদের সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল একজন নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার সম্মান এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ অপেক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা আইনের প্রতি আস্থা হারাননি।

শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আরও বলেন, তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো দ্রুত চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নিরপেক্ষ ও আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

মামলার বাদীপক্ষের তৎকালীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

ছয় বছর পরও আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা ও সাধারণ মানুষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা

সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টেকনাফের বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ছয় বছর পূর্ণ হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষিত হলেও মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর-বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর সিনহা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আরও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। তবে আসামিপক্ষ আপিল করায় মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টিটিএনকে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রদীপকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা সত্য প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে চূড়ান্ত রায় দ্রুত কার্যকর হলেই তারা প্রকৃত স্বস্তি পাবেন।

তিনি বলেন, গত ছয় বছর তাদের সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল একজন নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার সম্মান এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ অপেক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা আইনের প্রতি আস্থা হারাননি।

শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আরও বলেন, তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো দ্রুত চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নিরপেক্ষ ও আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

মামলার বাদীপক্ষের তৎকালীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

ছয় বছর পরও আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা ও সাধারণ মানুষ।