মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোগদখলীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা ও ভুক্তভোগীদের হুমকি, মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় শহিদুল ইসলাম (৪২) পিতা-মৃত আহম্মদ হোছাইন, তার ভাই মোঃ করিম (৩৩), মোঃ মোরশেদ (৩৪), মোঃ রুবায়েত (২০), হাবিবুর রহমান (৫৫) পিতা-মৃত আবদুল খালেক, এন্তেফাজুর রহমান (৫০) পিতা-আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেজাম উদ্দিন বলেন, ইউনুছখালী মৌজার আর.এস খতিয়ান-৩১ ও বি.এস খতিয়ান-৩৯ এর বি.এস দাগ নং-৪৮২ এর ৭৮ শতক জমি তাঁর পৈত্রিক স্বত্বীয়। তা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তিনি এবং তাঁর ওয়ারিশগণ ভোগদখলে রয়েছে বলে জানান। কিন্তু উপরোক্ত ব্যক্তিরা হঠাৎ ওই জমিতে জবরদখলের চেষ্টা করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে নিরাপত্তার জন্য তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাননীয় সহকারী জজ আদালত, মহেশখালী, কক্সবাজার বরাবরে ৫১৮/২০২১ইং মামলা দায়ের করেন। সার্বিক তদন্তের মাধ্যমে আদালত উপরোক্ত জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার (১৪৪ ধারা আরোপ) আদেশ দেয়।
কিন্তু গত ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতের আদেশ অমান্য করে মাটি ভরাট ও দোকানের স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে।সেখানে বাঁধা দিলে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধরের চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয়।
নিরাপত্তা চেয়ে মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নেজাম উদ্দিন ও তাঁর ওয়ারিশগণকে প্রাণনাশের হুমকি এবং রাজনৈতিক মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়ারিশসূত্রে এই জমির মালিকপক্ষের ওয়ারিশ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ নিয়ে এবং কালারমারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম মিশুক-কে আওয়ামী লীগ ট্যাগ নিয়ে নানাভাবে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে এবং তাকে ও তাঁর ওয়ারিশগনকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এসব প্রোপাগাণ্ডার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের ভোগদখলীয় জমিতে হঠাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দখল করার চেষ্টা করে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমির বিভিন্ন দলিল, কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে প্রশাসন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে জোর জবরদস্তি করে কারো জমি দখল করা তো অসম্পূর্ণ অন্যায়। এই অন্যায়ে বাঁধা দেওয়ায় আমিসহ আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন, মিথ্যা, একপাক্ষিক সংবাদ পরিবেশন করিয়ে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এমন অন্যায় করছে এবং আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভূমি দখলের চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
ভুক্তভোগীরা বলেন, রবিবার (৪ অক্টোবর) অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম ও অন্যারা ওই জায়গায় পুনরায় মাটি ভরাট করতে যায়। এসময় ভুক্তভোগীরা বাঁধা দিলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই জমির মালিকানা তাদের। এই বিষয়ে তারা গত ২৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিলে এলাকার শাস্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























