ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সোমবার কক্সবাজার আসছেন, যোগ দেবেন রামুর জাহাজভাসা উৎসবে সেন্টমার্টিনে ট্রাভেল পাস লাগবে কি, কত দিন রাতযাপন করা যাবে- জাহাজ ছাড়বে কোথা থেকে? ফানুসের রঙে আলোকিত রামু, প্রবারণা পূর্ণিমায় উৎসবমুখর বৌদ্ধ জনপদ কুতুবদিয়ার অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার আবদুল গফুর কুতুবী মারা গেছেন : সোমবার জানাজা ৯০ দশকের ছাত্রনেতা উখিয়ার কফিল উদ্দিন চৌধুরী আর নেই ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ডাকাতির মামলায় ইমাম হোসেন গ্রেফতার নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে চলবে সেন্টমার্টিনের জাহাজ : দিতে হবে পরিবেশ ফি টেকনাফে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ মহেশখালীতে ট্রলি গাড়ি উল্টে শ্রমিকের মৃত্যু ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন টঙ্গীতে শিশু যৌ’ন নিপী’ড়নের অভিযোগ: মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের জামিন নামঞ্জুর জুলাই অভ্যুত্থানের তিন মামলায় হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি, কবে কোথায় আঘাত আগামীকাল থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট পাবেন যেভাবে

কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা

কক্সবাজারে সামাজিক সম্প্রীতি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা জরুরি। রোববার অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

২৫ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “নারীবাদী গবেষণার নীতি অনুসরণে তরুণদের পরিচালিত অংশগ্রহণমূলক গবেষণা” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তরুণ গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গবেষণার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হয়।

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (আরআইবি) কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এ গবেষণায় কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফে তরুণদের নেতৃত্বে পাঁচটি অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকারের ভূমিকা, নারী-সংবেদনশীল সরকারি সেবা পেতে বাধা, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ, সংঘাত প্রতিরোধে তরুণদের নেতৃত্বে আগাম সতর্কীকরণ এবং অনলাইনে ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার সমন্বিত ফলাফল তুলে ধরে আরআইবির উপপরিচালক রুহি নাজ বলেন, গুজব, ভুল তথ্য, সরকারি সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অসম সুযোগের মতো দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ কমিউনিটির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য, মানুষের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয় এমন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন সমস্যার সমাধানের সুযোগ থাকলে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা সহজ হয়। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অনেক কমিউনিটিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকলেও তা ধরে রাখতে এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

গবেষণায় নারী ও কিশোরীদের বিভিন্ন বাধার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের বিধিনিষেধ, সামাজিক সমালোচনার ভয়, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এবং কমিউনিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখার সুযোগের অভাব। এসব বাধা দূর করতে নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিসর তৈরি, তথ্য ও সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফারিহা হোসেন অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসূচি পরিকল্পনায় কমিউনিটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে তরুণদের নেতৃত্বে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “তরুণদের কমিউনিটির সমস্যা চিহ্নিত করার এবং বাস্তবসম্মত সমাধানে অবদান রাখার সক্ষমতা রয়েছে। নারী ও কিশোরীরাও যখন নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে, সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গঠনে অংশ নিতে পারেন, তখন তরুণদের অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।”

পাঁচটি গবেষক দলের তরুণ সদস্যরা তাদের গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং গবেষণার ফলাফল কীভাবে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সুপারিশের মধ্যে ছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করা, সরকারি সেবার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করা এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য আদান-প্রদান উৎসাহিত করা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সুশালা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক শোমায়া কামাল সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সভায় অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নারী ও কিশোরীদের নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ এবং তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখার জন্য আত্মবিশ্বাস, নিরাপদ পরিসর ও সুযোগ প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গড়ে তুলতে তাদের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আলোচনায় অংশ নেওয়া এক সাংবাদিক কমিউনিটির মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং তথ্য আদান-প্রদানের ভূমিকা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গুজব ও যাচাই না করা তথ্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যে আস্থা নষ্ট করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। তরুণ, সাংবাদিক ও কমিউনিটির নেতারা একসঙ্গে কাজ করে তথ্য যাচাই করতে, ভুল তথ্যের মোকাবিলা করতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এমন ইতিবাচক গল্প তুলে ধরতে পারেন।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কগুলো সম্ভাব্য উত্তেজনা আগেভাগে চিহ্নিত করতে, যাচাই করা তথ্য ছড়িয়ে দিতে এবং কমিউনিটির উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুস্পষ্ট দায়িত্ব, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপদভাবে সংশ্লিষ্ট সেবায় পাঠানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনা এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি, দায়িত্ব বণ্টন ও সময়সীমা নির্ধারণ, তরুণদের দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ জোরদার, সরকারি সেবা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং ভুল তথ্য ও কমিউনিটির উদীয়মান উদ্বেগ মোকাবিলায় নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণাগুলো নির্বাচিত কিছু কমিউনিটিতে গুণগত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। তাই এর ফলাফল কক্সবাজারের পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পাওয়া এসব তথ্য ভবিষ্যৎ সংলাপ, অ্যাডভোকেসি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ সামাজিক ন্যায়বিচার, জেন্ডার সমতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমনের পর থেকে সংস্থাটি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে। এর লক্ষ্য মানবিক

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা

কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা

আপডেট সময় : ১২:১৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে সামাজিক সম্প্রীতি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা জরুরি। রোববার অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

২৫ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “নারীবাদী গবেষণার নীতি অনুসরণে তরুণদের পরিচালিত অংশগ্রহণমূলক গবেষণা” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তরুণ গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গবেষণার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হয়।

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (আরআইবি) কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এ গবেষণায় কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফে তরুণদের নেতৃত্বে পাঁচটি অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকারের ভূমিকা, নারী-সংবেদনশীল সরকারি সেবা পেতে বাধা, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ, সংঘাত প্রতিরোধে তরুণদের নেতৃত্বে আগাম সতর্কীকরণ এবং অনলাইনে ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার সমন্বিত ফলাফল তুলে ধরে আরআইবির উপপরিচালক রুহি নাজ বলেন, গুজব, ভুল তথ্য, সরকারি সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অসম সুযোগের মতো দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ কমিউনিটির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য, মানুষের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয় এমন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন সমস্যার সমাধানের সুযোগ থাকলে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা সহজ হয়। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অনেক কমিউনিটিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকলেও তা ধরে রাখতে এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

গবেষণায় নারী ও কিশোরীদের বিভিন্ন বাধার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের বিধিনিষেধ, সামাজিক সমালোচনার ভয়, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এবং কমিউনিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখার সুযোগের অভাব। এসব বাধা দূর করতে নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিসর তৈরি, তথ্য ও সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফারিহা হোসেন অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসূচি পরিকল্পনায় কমিউনিটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে তরুণদের নেতৃত্বে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “তরুণদের কমিউনিটির সমস্যা চিহ্নিত করার এবং বাস্তবসম্মত সমাধানে অবদান রাখার সক্ষমতা রয়েছে। নারী ও কিশোরীরাও যখন নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে, সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গঠনে অংশ নিতে পারেন, তখন তরুণদের অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।”

পাঁচটি গবেষক দলের তরুণ সদস্যরা তাদের গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং গবেষণার ফলাফল কীভাবে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সুপারিশের মধ্যে ছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করা, সরকারি সেবার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করা এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য আদান-প্রদান উৎসাহিত করা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সুশালা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক শোমায়া কামাল সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সভায় অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নারী ও কিশোরীদের নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ এবং তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখার জন্য আত্মবিশ্বাস, নিরাপদ পরিসর ও সুযোগ প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গড়ে তুলতে তাদের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আলোচনায় অংশ নেওয়া এক সাংবাদিক কমিউনিটির মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং তথ্য আদান-প্রদানের ভূমিকা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গুজব ও যাচাই না করা তথ্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যে আস্থা নষ্ট করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। তরুণ, সাংবাদিক ও কমিউনিটির নেতারা একসঙ্গে কাজ করে তথ্য যাচাই করতে, ভুল তথ্যের মোকাবিলা করতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এমন ইতিবাচক গল্প তুলে ধরতে পারেন।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কগুলো সম্ভাব্য উত্তেজনা আগেভাগে চিহ্নিত করতে, যাচাই করা তথ্য ছড়িয়ে দিতে এবং কমিউনিটির উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুস্পষ্ট দায়িত্ব, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপদভাবে সংশ্লিষ্ট সেবায় পাঠানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনা এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি, দায়িত্ব বণ্টন ও সময়সীমা নির্ধারণ, তরুণদের দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ জোরদার, সরকারি সেবা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং ভুল তথ্য ও কমিউনিটির উদীয়মান উদ্বেগ মোকাবিলায় নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণাগুলো নির্বাচিত কিছু কমিউনিটিতে গুণগত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। তাই এর ফলাফল কক্সবাজারের পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পাওয়া এসব তথ্য ভবিষ্যৎ সংলাপ, অ্যাডভোকেসি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ সামাজিক ন্যায়বিচার, জেন্ডার সমতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমনের পর থেকে সংস্থাটি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে। এর লক্ষ্য মানবিক