কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সদ্য ঘোষিত সাত সদস্যের কমিটিতে সভাপতিসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি রয়েছেন।
অভিযোগ মতে, জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জল ও সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিনের নির্দেশক্রমে উখিয়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক এম সাইফুর রহমান সিকদার ও সদস্য সচিব খাইরুল আমিন গত ২৮ জুলাই এই কমিটি অনুমোদন দেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলাসহ ধর্ষণের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। মাদক মামলায় তিনি প্রায় চার বছর জেলও খেটেছেন। এছাড়াও কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেনের বিরুদ্ধেও মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজন করা হয়। ওই সম্মেলনে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী প্রধান অতিথি, জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জল প্রধান বক্তা এবং সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিল অধিবেশন করা হলেও যুবদলের জেলা নেতৃত্ব মতামতের ভিত্তিতে কমিটি দেওয়া হবে বলে চলে আসেন। ওই কাউন্সিলের ১০১ দিন পর বিতর্কিত এই কমিটি অনুমোদন করা হয়।
যুবদল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের কাউন্সিলে সভাপতি পদে ৬ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া ৬ জনের একজনকেও সভাপতি না করে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া মিজানুর রহমানকে সভাপতি করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৬ প্রার্থী। কিন্তু যুবদলের জেলা ও উখিয়া উপজেলা নেতৃত্ব ওই অভিযোগের কোনো সুরাহা না করে সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যার পাগলীরবিল এলাকার আলী আহমদ ও আমেনা বেগম দম্পতির ছেলে মিজানুর রহমানকে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগ থানা পুলিশ একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় তিনি প্রায় চার বছর কারাভোগ করেন। এছাড়াও নারী নির্যাতন মামলাসহ অন্তত চারটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতীতে ষড়যন্ত্র করে আমাকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছিল।”
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জলের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, যুবদলের কমিটি গঠনের আগে মাদক কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা যাচাই করা হয়। মাদক কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিলে কমিটি বাতিল করা হবে।
বার্তা পরিবেশক 























