ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পরিকল্পিত নগরায়নে প্রতি সিটি ও জেলায় হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়ায় ২ ভূয়া ডাক্তার : ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় শ্মশানের দেয়াল ভাঙচুর : পুন:নির্মাণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দূর্গাপুজা বন্ধের ঘোষণা কক্সবাজার সরকারি কলেজে মাস্টার্সে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৫ বিষয় : ইংরেজি, ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও প্রাণিবিদ্যা লিবিয়াকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের মুলহোতা মহিউদ্দিন আটক, তার ভাই মুজিব অধরা ইউনুছখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা: সংঘর্ষের আশংকা কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জন পেলেন ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যান এবং মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা : শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ এসপির বিশেষ অভিযান : সদর থানা পুলিশের জালে ৪০ দেড় লাখ ইয়াবাসহ টেকনাফে ৩ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গ্রেফতার ২৫২ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম টেকনাফে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের গোলাগুলি, আহত ২

ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারীবর্ষণের ফলে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশু সহ ৮ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে  আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) এর বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়ে।

এঘটনায় কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি ঢাকাপোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়, ৩ জনকে মৃত ও ২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত ১ টা ৪৫ এর দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটি চাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত একরাম ঐ ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ‘

সর্বশেষ রাত ৩ টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে উপজেলার বালুখালী ১১ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে  নারী ও শিশু সহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এছাড়াও আহত হয়েছেন ১ জন।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ঐ ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই
হারুনুর রশিদ (০৩)।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাত ৪ টার কিছু পর ছাত্তার ঘোনায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জন। স্থানীয়রা ৩ জনকে উদ্ধার করে। এসময় আলী আকবরের অবস্থান আশংকাজন হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১শ ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরো দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারীবর্ষণের ফলে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশু সহ ৮ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে  আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) এর বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়ে।

এঘটনায় কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি ঢাকাপোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়, ৩ জনকে মৃত ও ২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত ১ টা ৪৫ এর দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটি চাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত একরাম ঐ ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ‘

সর্বশেষ রাত ৩ টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে উপজেলার বালুখালী ১১ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে  নারী ও শিশু সহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এছাড়াও আহত হয়েছেন ১ জন।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ঐ ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই
হারুনুর রশিদ (০৩)।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাত ৪ টার কিছু পর ছাত্তার ঘোনায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জন। স্থানীয়রা ৩ জনকে উদ্ধার করে। এসময় আলী আকবরের অবস্থান আশংকাজন হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১শ ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরো দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।