ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

আপডেট সময় : ১২:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।