ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা দেশে মোট গাঁজাখোর ৬১ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার: নাইক্ষ্যংছড়িতে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু লামা পৌরসভার ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা গর্জনিয়ার মাঝিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি : সভাপতি ফরিদ উদ্দিন রামুর হাইটুপিতে রাখাইন তরুনীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রামুর ২৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, ব্যাহত পাঠদান রোববার থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে: হাইকমিশনার ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ ভূমিকম্প তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য রামুর খুনিয়াপালংয়ে রহস্যজনক লাশ উদ্ধার: স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘মনে হচ্ছিল, পুরো ভবনটি মাথার ওপর ভেঙে পড়বে’, ভেনেজুয়েলায় নিহত ৩২, আহত ৭০০ বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

আপডেট সময় : ১২:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।