ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ : যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার

টেকনাফের ওসিকে কনস্টেবলের সঙ্গে তুলনা যুবদল আহ্বায়ক কাইয়ুমের

টেকনাফে অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন দিয়ে অপহরণ ও মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সৎ, সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে কনস্টেবলের সঙ্গে তুলনা করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে টেকনাফ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে পৌর বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ এনামুল হাসান। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, টেকনাফে অপহরণ ও মাদক রোধে আরও কার্যকর প্রশাসনের প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা দরকার, যিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, টেকনাফ থানার বর্তমান ওসির নেতৃত্বে এলাকায় পুরোপুরি শান্তি ফিরবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নতুন আইন করেছে। সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ করে মাদক ব্যবসায়ী ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনাফকে মাদক ও অপহরণমুক্ত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করেন, অপহরণের ঘটনার পর অনেক সময় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয় না। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে টেকনাফে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় অপহরণ বন্ধ করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়ার প্রতিনিধি রুবাইয়াত হোসেন যুবদল নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, থানা পুলিশকে নিরুৎসাহিত করা হলে টেকনাফের বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, নতুন পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং সামগ্রিক পুলিশিং ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানান। তিনি এসব দাবির পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াও নেই। তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। আমি যতদিন টেকনাফে দায়িত্বে থাকব, ততদিন মানুষের সেবায় কাজ করে যাব। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। এ বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টেকনাফের ওসিকে কনস্টেবলের সঙ্গে তুলনা যুবদল আহ্বায়ক কাইয়ুমের

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

টেকনাফে অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন দিয়ে অপহরণ ও মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সৎ, সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে কনস্টেবলের সঙ্গে তুলনা করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে টেকনাফ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে পৌর বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ এনামুল হাসান। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, টেকনাফে অপহরণ ও মাদক রোধে আরও কার্যকর প্রশাসনের প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা দরকার, যিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, টেকনাফ থানার বর্তমান ওসির নেতৃত্বে এলাকায় পুরোপুরি শান্তি ফিরবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নতুন আইন করেছে। সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ করে মাদক ব্যবসায়ী ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনাফকে মাদক ও অপহরণমুক্ত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করেন, অপহরণের ঘটনার পর অনেক সময় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয় না। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে টেকনাফে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় অপহরণ বন্ধ করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়ার প্রতিনিধি রুবাইয়াত হোসেন যুবদল নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, থানা পুলিশকে নিরুৎসাহিত করা হলে টেকনাফের বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, নতুন পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং সামগ্রিক পুলিশিং ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানান। তিনি এসব দাবির পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াও নেই। তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। আমি যতদিন টেকনাফে দায়িত্বে থাকব, ততদিন মানুষের সেবায় কাজ করে যাব। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। এ বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি।