ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২৭৪১ টাকা লোহাগাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের নির্দেশ পেকুয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের লোহাগাড়ায় ইয়াবা সেবন করে মাকে মারধর, ছেলের এক মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজিজনগরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাহাড়সম অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলের মৃত্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ আজ জেলহত্যা দিবস গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী এলপিজির দাম বাড়ানোর পর কোন সিলিন্ডার কত  ১২০ কিমি বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

ব্যাংকে পড়ে আছে ১৭২ কোটি টাকা, জানেন না মালিক ও উত্তরাধিকারীরা!

দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। বছরের পর বছর লেনদেন না হওয়ায় এসব হিসাবের মালিক কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীদের অনেকেই জানেন না, ব্যাংকে তাদের নামে টাকা জমা রয়েছে। আবার আমানতের অর্থ তুলতে গিয়ে উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহসহ নানা আইনি জটিলতা ও খরচের মুখে পড়ছেন অনেকে।

একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে সন্তানদের জন্য ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা জমা রেখে গেছেন। কিন্তু সেই টাকা তুলতে হলে সন্তানদের সংগ্রহ করতে হবে উত্তরাধিকার সনদ। এতে খরচ হবে অন্তত ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে তাদের ব্যয় দাঁড়াবে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ এই অর্থ খরচ করার সামর্থ্য নেই তাদের।

নিরাপত্তার কারণে ওই পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করছে না সময় সংবাদ। তবে প্রশ্ন উঠেছে, নিজের বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থের মালিকানা প্রমাণ করতে এবং প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে একজন নাগরিককে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে কেন? বিশেষ করে, যখন সেই খরচ বহন করার সামর্থ্যও নেই অনেকের।

আয়নাল হক। শুধু একটি নাম ও স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে তার খোঁজ শুরু করে সময় সংবাদ। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন স্থাপনার পরিবর্তন এবং পুরোনো দলিলে নতুন নতুন হোল্ডিং নম্বর যুক্ত হওয়ায় ঠিকানা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সারাদিনের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত খোঁজ মেলে আয়নাল হকের। কিন্তু ১৫ বছর পর জানতে পেরে অবাক হন তিনি, ব্যাংকে তার জমা টাকা চলে গেছে সরকারি কোষাগারে।

মিরপুরের আহমদনগরে সরফুন্নাহারের হিসাবে জমা রয়েছে লাখ টাকার বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, শহরের সঙ্গে সব সম্পর্ক ও লেনদেন চুকিয়ে তারা হয়তো ঝিনাইদহে ফিরে গেছেন। নারায়ণগঞ্জের জামতলায় গিয়ে জানা যায়, আমান খান নামে এক আমানতকারীর বাবার পদবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শাহ সুজা রোডের আলমগীর হিরণ স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় চলে গেছেন।

এভাবেই ঠিকানা পরিবর্তন, নামের অসংগতি এবং উত্তরাধিকারী বা নমিনি শনাক্ত করতে না পারার কারণে বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকছে ব্যাংক হিসাব। অনেক হিসাবে বাবা-মায়ের নামও উল্লেখ নেই। ফলে প্রকৃত আমানতকারী কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব জটিলতার কারণে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে।

তবে দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়লেই ওই অর্থের ওপর গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীদের দাবি শেষ হয়ে যায় না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেউ আইনগতভাবে নিজেকে সংশ্লিষ্ট আমানতের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রমাণ করতে পারলে তিনি ওই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আদালত আমানতের কত অংশ কোন উত্তরাধিকারী পাবেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিলে ব্যাংক সেই অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, সরকারি কোষাগার থেকে টাকা ফেরত আনা সহজ নয়। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দায়িত্ব নিয়ে আমানতের অর্থ পরিশোধ করতে পারে। মৃত আমানতকারীর পরিবারের ঠিকানা ও বিস্তারিত তথ্য ব্যাংকের কাছে থাকার কথা। তাই তিন বা ছয় মাস কোনো যোগাযোগ কিংবা লেনদেন না হলে হিসাবটি কেন নিষ্ক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা ব্যাংকের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সময় সংবাদ অন্তত ১৫ জন দাবিহীন আমানতকারীর খোঁজ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যাংক সরাসরি গ্রাহক বা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেক নিষ্ক্রিয় হিসাব আবার সচল হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারীরাও জটিলতা ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে নিতে পারবেন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা

ব্যাংকে পড়ে আছে ১৭২ কোটি টাকা, জানেন না মালিক ও উত্তরাধিকারীরা!

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। বছরের পর বছর লেনদেন না হওয়ায় এসব হিসাবের মালিক কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীদের অনেকেই জানেন না, ব্যাংকে তাদের নামে টাকা জমা রয়েছে। আবার আমানতের অর্থ তুলতে গিয়ে উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহসহ নানা আইনি জটিলতা ও খরচের মুখে পড়ছেন অনেকে।

একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে সন্তানদের জন্য ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা জমা রেখে গেছেন। কিন্তু সেই টাকা তুলতে হলে সন্তানদের সংগ্রহ করতে হবে উত্তরাধিকার সনদ। এতে খরচ হবে অন্তত ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে তাদের ব্যয় দাঁড়াবে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ এই অর্থ খরচ করার সামর্থ্য নেই তাদের।

নিরাপত্তার কারণে ওই পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করছে না সময় সংবাদ। তবে প্রশ্ন উঠেছে, নিজের বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থের মালিকানা প্রমাণ করতে এবং প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে একজন নাগরিককে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে কেন? বিশেষ করে, যখন সেই খরচ বহন করার সামর্থ্যও নেই অনেকের।

আয়নাল হক। শুধু একটি নাম ও স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে তার খোঁজ শুরু করে সময় সংবাদ। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন স্থাপনার পরিবর্তন এবং পুরোনো দলিলে নতুন নতুন হোল্ডিং নম্বর যুক্ত হওয়ায় ঠিকানা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সারাদিনের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত খোঁজ মেলে আয়নাল হকের। কিন্তু ১৫ বছর পর জানতে পেরে অবাক হন তিনি, ব্যাংকে তার জমা টাকা চলে গেছে সরকারি কোষাগারে।

মিরপুরের আহমদনগরে সরফুন্নাহারের হিসাবে জমা রয়েছে লাখ টাকার বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, শহরের সঙ্গে সব সম্পর্ক ও লেনদেন চুকিয়ে তারা হয়তো ঝিনাইদহে ফিরে গেছেন। নারায়ণগঞ্জের জামতলায় গিয়ে জানা যায়, আমান খান নামে এক আমানতকারীর বাবার পদবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শাহ সুজা রোডের আলমগীর হিরণ স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় চলে গেছেন।

এভাবেই ঠিকানা পরিবর্তন, নামের অসংগতি এবং উত্তরাধিকারী বা নমিনি শনাক্ত করতে না পারার কারণে বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকছে ব্যাংক হিসাব। অনেক হিসাবে বাবা-মায়ের নামও উল্লেখ নেই। ফলে প্রকৃত আমানতকারী কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব জটিলতার কারণে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে।

তবে দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়লেই ওই অর্থের ওপর গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীদের দাবি শেষ হয়ে যায় না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেউ আইনগতভাবে নিজেকে সংশ্লিষ্ট আমানতের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রমাণ করতে পারলে তিনি ওই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আদালত আমানতের কত অংশ কোন উত্তরাধিকারী পাবেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিলে ব্যাংক সেই অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, সরকারি কোষাগার থেকে টাকা ফেরত আনা সহজ নয়। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দায়িত্ব নিয়ে আমানতের অর্থ পরিশোধ করতে পারে। মৃত আমানতকারীর পরিবারের ঠিকানা ও বিস্তারিত তথ্য ব্যাংকের কাছে থাকার কথা। তাই তিন বা ছয় মাস কোনো যোগাযোগ কিংবা লেনদেন না হলে হিসাবটি কেন নিষ্ক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা ব্যাংকের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সময় সংবাদ অন্তত ১৫ জন দাবিহীন আমানতকারীর খোঁজ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যাংক সরাসরি গ্রাহক বা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেক নিষ্ক্রিয় হিসাব আবার সচল হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারীরাও জটিলতা ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে নিতে পারবেন