ঈদগাঁওয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ, উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট এবং একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকজনের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা জরিমানার করা হয়।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মহাসড়কসংলগ্ন ঈদগাঁও নাসি খালের অবৈধ বালু উত্তোলনস্থলে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয় এবং বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় ঈদগাঁও নদীর হাইস্কুলের বিপরীত পাশে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দের পাশাপাশি অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। তবে এ সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তৃতীয় দফায় জালালাবাদ ইউনিয়নের ছাতিপাড়ায় ঈদগাঁও নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনস্থলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বসতভিটায় ভরাট করা বিপুল পরিমাণ বালু ও একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
এ সময় বালু উত্তোলনে জড়িত ঈদগাঁও রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আয়াত উল্লাহ ছুট্টো পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁকে ২ লাখ টাকা জরিমানার ঘোষণা দেন ইউএনও মংচিংনু মারমা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদু শুক্কুর, উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামাল হোসেন এমইউপি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পলাতক ছুট্টোকে উপজেলা কার্যালয়ে হাজির করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ড্রেজার মেশিন জব্দ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট করে অভিযান শেষ করা হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
ইউএনও মংচিংনু মারমা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিন দফায় পরিচালিত অভিযানে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে উপস্থিতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্রেজার মেশিনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং বালু উত্তোলনের অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালুমহালের তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 








