“বি এ হ্যান্ডওয়াশিং হিরো” অর্থাৎ “হাত ধোয়ায় নায়ক হোন”—এই প্রতিপাদ্যে কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পর্যটন হোটেল শৈবাল মিলনায়তনে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং ইউনিসেফ এর ওয়াশ অফিসার সাজেদা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শাহিদুল আলম।
এছাড়া কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা গোলাম মোস্তফা, ইউনিসেফের চীফ অফ ফিল্ড অফিস দীপিকা শর্মা, ইউনিসেফের ওয়াশ স্পেশালিষ্ট রাফায়েল নওরোজ, , বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, অক্সফামের পিএইচপি প্রোগ্রাম লীড মনিরুজ্জামান এবং এনজিও প্রতিনিধি হিসেবে হাইসাওয়ার প্রকল্প পরিচালক এনামুল হক মন্ডল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, হাত ধোয়ার কারনে ১৭% সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা কমে যায়। অপরিচ্ছন্ন হাত বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়িত ক্ষতিগ্রস্থ বা রোগাক্রান্ত করে, তাই হাত ধোয়ার অভ্যাস একান্তই অপরিহার্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার মোট ২৫.২ শতাংশ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধৌত করেনা এবং চারকোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার মানুষ এখনো সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হাত ধোয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকেরা।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অতিথিরা কর্মসূচির শুরুতে বেলুন উড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সাবান দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার কার্যক্রমে অংশ নেন। এছাড়া কেককাটা, হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক সংগীত পরিবেশন এবং গণস্বাক্ষর, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশেষ করে খাবার গ্রহণের আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সময়ে সাবান দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সচেতনতামূলক এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















