ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা পেকুয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

“আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে”

​সাগর প্রকৃতি আর মানুষ ভালোবাসতেন বলেই কক্সবাজারের সাগর তীরের দরিয়ানগরে ছোট্ট একটি নীড় গড়ে তুলেছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াস। বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পাহাড়ে পাখিদের কলকাকলি শোনা মানুষটি আজ আর নেই। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর এই অসময়ে চলে যাওয়ায় সময়ের আকাশে জমেছে শোকের মেঘ।

​সমুদ্র, বালিয়াড়ি, পাহাড় আর পাখি নিয়ে তাঁর ছিল বেশ কিছু গবেষণাপত্র। সাগর ও পাহাড়ের অস্তিত্ব নিয়ে ছিল ব্যাপক পর্যালোচনা। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখেও পড়েছেন। ২০২৩ সালে পাখি শিকারের প্রতিবাদ করায় তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল। সেদিন আহমদ গিয়াস হামলাকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ক্ষমা করে দিলাম তবুও পাখি বাঁচুক, বাঁচুক জীবন। এতোটাই মহান ছিলেন তিনি।

​মেধা ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ এক মানবজীবনের অধিকারী আহমদ গিয়াস মাত্র ৫৪ বছর বয়সে বড্ড অসময়ে চলে গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কলাতলীর দরিয়ানগর, কক্সবাজার প্রেসক্লাব এবং নিজ বাড়ি খুটাখালীর কিশলয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই তিন দফা জানাজা শেষে তাঁকে চিরঘুমের দেশে শায়িত করা হয়।

​যাপিত জীবনের অনটন তাঁকে কখনো সততার জায়গা থেকে টলাতে পারেনি। জীবনের দৈনন্দিনের শত কষ্টের ভেতরও নিজেকে সৎ রাখা যায়, তারই জ্বলজ্বলে প্রমাণ ছিলেন আহমদ গিয়াস। সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় ও আঞ্চলিক বেশ কিছু পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন। তবে সংবাদকর্মী হিসেবে বেতন বকেয়া থাকা এবং গবেষক হিসেবে সহযোগিতা না পাওয়ার মতো অনেক অভিমান নিয়েই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আহমদ গিয়াস।

সত্য বলার এক বুক সাহস, এক নিভৃতচারী গবেষক, এক অবিচল সততার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আহমদ গিয়াস। তিনি থেকে যাবেন তার না থাকা জুড়ে, এমনই বলছেন তার সহকর্মীরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের

“আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে”

আপডেট সময় : ১০:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

​সাগর প্রকৃতি আর মানুষ ভালোবাসতেন বলেই কক্সবাজারের সাগর তীরের দরিয়ানগরে ছোট্ট একটি নীড় গড়ে তুলেছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াস। বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পাহাড়ে পাখিদের কলকাকলি শোনা মানুষটি আজ আর নেই। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর এই অসময়ে চলে যাওয়ায় সময়ের আকাশে জমেছে শোকের মেঘ।

​সমুদ্র, বালিয়াড়ি, পাহাড় আর পাখি নিয়ে তাঁর ছিল বেশ কিছু গবেষণাপত্র। সাগর ও পাহাড়ের অস্তিত্ব নিয়ে ছিল ব্যাপক পর্যালোচনা। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখেও পড়েছেন। ২০২৩ সালে পাখি শিকারের প্রতিবাদ করায় তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল। সেদিন আহমদ গিয়াস হামলাকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ক্ষমা করে দিলাম তবুও পাখি বাঁচুক, বাঁচুক জীবন। এতোটাই মহান ছিলেন তিনি।

​মেধা ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ এক মানবজীবনের অধিকারী আহমদ গিয়াস মাত্র ৫৪ বছর বয়সে বড্ড অসময়ে চলে গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কলাতলীর দরিয়ানগর, কক্সবাজার প্রেসক্লাব এবং নিজ বাড়ি খুটাখালীর কিশলয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই তিন দফা জানাজা শেষে তাঁকে চিরঘুমের দেশে শায়িত করা হয়।

​যাপিত জীবনের অনটন তাঁকে কখনো সততার জায়গা থেকে টলাতে পারেনি। জীবনের দৈনন্দিনের শত কষ্টের ভেতরও নিজেকে সৎ রাখা যায়, তারই জ্বলজ্বলে প্রমাণ ছিলেন আহমদ গিয়াস। সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় ও আঞ্চলিক বেশ কিছু পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন। তবে সংবাদকর্মী হিসেবে বেতন বকেয়া থাকা এবং গবেষক হিসেবে সহযোগিতা না পাওয়ার মতো অনেক অভিমান নিয়েই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আহমদ গিয়াস।

সত্য বলার এক বুক সাহস, এক নিভৃতচারী গবেষক, এক অবিচল সততার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আহমদ গিয়াস। তিনি থেকে যাবেন তার না থাকা জুড়ে, এমনই বলছেন তার সহকর্মীরা।