সাগর প্রকৃতি আর মানুষ ভালোবাসতেন বলেই কক্সবাজারের সাগর তীরের দরিয়ানগরে ছোট্ট একটি নীড় গড়ে তুলেছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াস। বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পাহাড়ে পাখিদের কলকাকলি শোনা মানুষটি আজ আর নেই। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর এই অসময়ে চলে যাওয়ায় সময়ের আকাশে জমেছে শোকের মেঘ।
সমুদ্র, বালিয়াড়ি, পাহাড় আর পাখি নিয়ে তাঁর ছিল বেশ কিছু গবেষণাপত্র। সাগর ও পাহাড়ের অস্তিত্ব নিয়ে ছিল ব্যাপক পর্যালোচনা। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখেও পড়েছেন। ২০২৩ সালে পাখি শিকারের প্রতিবাদ করায় তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল। সেদিন আহমদ গিয়াস হামলাকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ক্ষমা করে দিলাম তবুও পাখি বাঁচুক, বাঁচুক জীবন। এতোটাই মহান ছিলেন তিনি।
মেধা ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ এক মানবজীবনের অধিকারী আহমদ গিয়াস মাত্র ৫৪ বছর বয়সে বড্ড অসময়ে চলে গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কলাতলীর দরিয়ানগর, কক্সবাজার প্রেসক্লাব এবং নিজ বাড়ি খুটাখালীর কিশলয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই তিন দফা জানাজা শেষে তাঁকে চিরঘুমের দেশে শায়িত করা হয়।
যাপিত জীবনের অনটন তাঁকে কখনো সততার জায়গা থেকে টলাতে পারেনি। জীবনের দৈনন্দিনের শত কষ্টের ভেতরও নিজেকে সৎ রাখা যায়, তারই জ্বলজ্বলে প্রমাণ ছিলেন আহমদ গিয়াস। সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় ও আঞ্চলিক বেশ কিছু পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন। তবে সংবাদকর্মী হিসেবে বেতন বকেয়া থাকা এবং গবেষক হিসেবে সহযোগিতা না পাওয়ার মতো অনেক অভিমান নিয়েই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আহমদ গিয়াস।
সত্য বলার এক বুক সাহস, এক নিভৃতচারী গবেষক, এক অবিচল সততার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আহমদ গিয়াস। তিনি থেকে যাবেন তার না থাকা জুড়ে, এমনই বলছেন তার সহকর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















