ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • 47

পূজার ছুটিতে দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। সমুদ্র দেখা আর অবসর সময় কাটিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু আনন্দভ্রমণটি পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ হন তিনি। টানা ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় তার দেহাবশেষ। গলায় থাকা লকেট দেখে শনাক্ত করা হয় পরিচয়। অবশেষে ১১ দিনের অপেক্ষা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তার শ্বশুরবাড়ি এলাকা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার বাইতুর রব জামে মসজিদের পাশে মুক্তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার মরদেহ নিজ বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা অংশ নেন।

মুক্তা উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে তারা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছিলেন।

মুক্তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা।

 

গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম দফায় সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হলেও ওই তালিকায় ছিলেন না মুক্তা। স্বজনদের দেওয়া নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের নমুনার মিল না পাওয়ায় তার খোঁজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

ফয়সাল দেওয়ান বলেন, দুর্ঘটনার দিনই ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় মুক্তার সঙ্গে কোনো মরদেহের নমুনার মিল না পাওয়ায় আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমরা বুঝতে পারছিলাম না, তাহলে আমাদের স্ত্রীর মরদেহ কোথায়?

তিনি জানান, এ অবস্থায় পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে চান। পুলিশ সুপার তাকে নিখোঁজের মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি মামলা করেন। এরপর উদ্ধারকারী দল আবার ঘটনাস্থলে যায়। স্বজনেরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজার অনুরোধ জানান।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযান শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনের দোতলার ওপর থেকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী ফয়সাল দেওয়ান।

ফয়সাল বলেন, কক্সবাজারে আসার ৫-৬ দিন আগে আমি মুক্তাকে একটি গলার লকেট কিনে দিয়েছিলাম। দেহাবশেষ দেখানোর আগেই আমি উদ্ধারকারীদের বলেছিলাম, ওর গলায় একটি চেন আছে। দেহের বেশির ভাগ অংশ না থাকলেও গলার কাছে চেনটি ছিল। সেটি দেখেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

 

টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ উদ্ধার

অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর টুপটুপ রিসোর্ট থেকে আরও এক মরদেহ উদ্ধার

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা এটুকু দেহাবশেষ আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তা না হলে ১০ দিন পর হয়ত কিছুই পাওয়া যেত না। আমরা অন্তত তার দেহের একটি অংশ পেয়েছি।

মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারে বিলম্বের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন ফয়সাল দেওয়ান। তার দাবি, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতো।

ফয়সাল বলেন, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজে গাফিলতি ছিল বলে আমার মনে হয়। তারা ভালোভাবে খুঁজলে হয়ত আগেই মরদেহটি পাওয়া যেত। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি ছিল। তাদের কোনো ইমার্জেন্সি এক্সেস ছিল না, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ছিল না। ওই রিসোর্টে ১৯ জন স্টাফ ছিল। তারা সবাই বের হয়ে আসল, ১০-১১ জনকে বের করতে পারল না। যেখানে আমার স্ত্রীর বান্ধবীরা বারবার তাদের বলছে, ‘আমার বান্ধবী ভিতরে আছে, মনে আছে আপনার? একটু ডেকে দিন।’

দীর্ঘ ১১ দিনের উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসান হয়েছে মুক্তার দাফনের মধ্য দিয়ে। তবে স্বজনদের শোক কাটেনি। যে মানুষটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা, শেষ পর্যন্ত তার দেহাবশেষ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।

ফয়সাল বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। আমি চাই না, আমার মতো আর কাউকে অল্প বয়সে স্ত্রী হারাতে হোক। কোনো বাবা যেন তার মেয়েকে না হারান, কোনো স্বজন যেন এভাবে প্রিয়জনকে না হারান। এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে।

এদিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, টুপটুপ রিসোর্টের পুরো ধ্বংসাবশেষে সমন্বিত একটি দল নিখোঁজ মুক্তার মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দোতলার ওপর থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।

অবশেষে মঠবাড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তা। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

সুত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা

আপডেট সময় : ১২:২১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পূজার ছুটিতে দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। সমুদ্র দেখা আর অবসর সময় কাটিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু আনন্দভ্রমণটি পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ হন তিনি। টানা ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় তার দেহাবশেষ। গলায় থাকা লকেট দেখে শনাক্ত করা হয় পরিচয়। অবশেষে ১১ দিনের অপেক্ষা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তার শ্বশুরবাড়ি এলাকা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার বাইতুর রব জামে মসজিদের পাশে মুক্তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার মরদেহ নিজ বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা অংশ নেন।

মুক্তা উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে তারা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছিলেন।

মুক্তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা।

 

গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম দফায় সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হলেও ওই তালিকায় ছিলেন না মুক্তা। স্বজনদের দেওয়া নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের নমুনার মিল না পাওয়ায় তার খোঁজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

ফয়সাল দেওয়ান বলেন, দুর্ঘটনার দিনই ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় মুক্তার সঙ্গে কোনো মরদেহের নমুনার মিল না পাওয়ায় আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমরা বুঝতে পারছিলাম না, তাহলে আমাদের স্ত্রীর মরদেহ কোথায়?

তিনি জানান, এ অবস্থায় পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে চান। পুলিশ সুপার তাকে নিখোঁজের মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি মামলা করেন। এরপর উদ্ধারকারী দল আবার ঘটনাস্থলে যায়। স্বজনেরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজার অনুরোধ জানান।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযান শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনের দোতলার ওপর থেকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী ফয়সাল দেওয়ান।

ফয়সাল বলেন, কক্সবাজারে আসার ৫-৬ দিন আগে আমি মুক্তাকে একটি গলার লকেট কিনে দিয়েছিলাম। দেহাবশেষ দেখানোর আগেই আমি উদ্ধারকারীদের বলেছিলাম, ওর গলায় একটি চেন আছে। দেহের বেশির ভাগ অংশ না থাকলেও গলার কাছে চেনটি ছিল। সেটি দেখেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

 

টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ উদ্ধার

অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর টুপটুপ রিসোর্ট থেকে আরও এক মরদেহ উদ্ধার

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা এটুকু দেহাবশেষ আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তা না হলে ১০ দিন পর হয়ত কিছুই পাওয়া যেত না। আমরা অন্তত তার দেহের একটি অংশ পেয়েছি।

মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারে বিলম্বের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন ফয়সাল দেওয়ান। তার দাবি, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতো।

ফয়সাল বলেন, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজে গাফিলতি ছিল বলে আমার মনে হয়। তারা ভালোভাবে খুঁজলে হয়ত আগেই মরদেহটি পাওয়া যেত। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি ছিল। তাদের কোনো ইমার্জেন্সি এক্সেস ছিল না, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ছিল না। ওই রিসোর্টে ১৯ জন স্টাফ ছিল। তারা সবাই বের হয়ে আসল, ১০-১১ জনকে বের করতে পারল না। যেখানে আমার স্ত্রীর বান্ধবীরা বারবার তাদের বলছে, ‘আমার বান্ধবী ভিতরে আছে, মনে আছে আপনার? একটু ডেকে দিন।’

দীর্ঘ ১১ দিনের উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসান হয়েছে মুক্তার দাফনের মধ্য দিয়ে। তবে স্বজনদের শোক কাটেনি। যে মানুষটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা, শেষ পর্যন্ত তার দেহাবশেষ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।

ফয়সাল বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। আমি চাই না, আমার মতো আর কাউকে অল্প বয়সে স্ত্রী হারাতে হোক। কোনো বাবা যেন তার মেয়েকে না হারান, কোনো স্বজন যেন এভাবে প্রিয়জনকে না হারান। এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে।

এদিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, টুপটুপ রিসোর্টের পুরো ধ্বংসাবশেষে সমন্বিত একটি দল নিখোঁজ মুক্তার মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দোতলার ওপর থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।

অবশেষে মঠবাড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তা। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

সুত্র: ঢাকা পোস্ট