ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শহীদ ইশমামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী : ছেলের ছবির সামনে মায়ের আহাজারি, মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু পেকুয়ায় ওযু করতে গিয়ে পা পিছলে মসজিদের ইমামের মৃত্যু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: ট্যুরিস্ট জীপ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান:জরিমানা ও গাড়ি জব্দ লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি, নেতাকর্মীদের ঢল নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবির অভিযান : ইয়াবা উদ্ধার নারীদের সুরক্ষায় টেকনাফে সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন অভিযোগ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৫৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আটক ২ : উদ্ধার হয়নি টাকা কথিত ছোটন সিন্ডিকেটের মাদক আনতেই কি মাইন বিস্ফোরণে পা হারালেন বালুখালীর সেই জেলে? রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজে গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন ও কৃতিদের সংবর্ধনা গর্জনিয়ার জাউচপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করলেন সাংবাদিক হাফিজ নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি’ ভারত হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে: রিজভী

‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

কক্সবাজারে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ‘মূল হোতাদের’ শনাক্ত করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত স্থল ও জলপথ চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং নৌপথে টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাদক বহনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কোনো পক্ষপাত না করে ‘নির্মোহভাবে’ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ওই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় যারা মূল হোতা, তাদের তালিকা টাস্কফোর্স তৈরি করবে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগ

কক্সবাজারের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে। সভায় মাদক চোরাচালান বন্ধে এই টাস্কফোর্সের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইয়াবার কারণে যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে, এটা আমরা লক্ষ্য করছি। মাদকের প্রসার রোধ করা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে থেমে না থেকে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকটি স্তরে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসার মূল হোতা, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মাদক বহনকারী বা ‘ক্যারিয়ার’। এসব ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

চোরাচালানের রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প

মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।’

কক্সবাজারের ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী এলাকা, পাহাড়ি পথ এবং উপকূলীয় জলপথ মাদক পাচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদক পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে নতুন উদ্যোগে শুধু স্থলপথ নয়, জলপথেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নেভি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে।’

এর ফলে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা ও নৌপথে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত তৎপরতা বাড়তে পারে।

বাহকদেরও চিহ্নিত করা হবে

মাদক চোরাচালানের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করে। এর মধ্যে মাদকের মূল অর্থদাতা বা কারবারি, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি থাকতে পারেন। সরকারের নতুন উদ্যোগে এই পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক চোরাচালানে যারা বাহক বা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বাহক পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করা গেলে মাদকের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব।

এই কারণে শীর্ষ কারবারিদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি মাদক পাচারের রুট ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত ও উপকূলে বাড়বে নজরদারি

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কক্সবাজার মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, অন্যদিকে বিস্তৃত উপকূল ও নাফ নদী—সব মিলিয়ে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এলাকাটি বিশেষ চ্যালেঞ্জের।

বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তের পাশাপাশি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন জলপথ ব্যবহার করেও মাদক পাচারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

এ কারণে নতুন পরিকল্পনায় স্থলভাগের পাশাপাশি জলপথে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

তবে মাদক চোরাচালান বন্ধে শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত—এসব বিষয়ও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুবসমাজ নিয়ে উদ্বেগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবার কারণে দেশের যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধ করাকে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাই শুধু চোরাচালান বন্ধ নয়, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা গেলেও দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা থাকলে মাদক ব্যবসার নতুন পথ তৈরির আশঙ্কা থাকে।

সভায় ছিলেন সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা

মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কক্সবাজারের মাদক পরিস্থিতি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কক্সবাজারে দুই দিনের সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে সন্ধ্যায় দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। পরে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করবেন তিনি।

এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুপুরে হিল ডাউন সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফর শেষে সন্ধ্যায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৫৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ‘মূল হোতাদের’ শনাক্ত করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত স্থল ও জলপথ চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং নৌপথে টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাদক বহনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কোনো পক্ষপাত না করে ‘নির্মোহভাবে’ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ওই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় যারা মূল হোতা, তাদের তালিকা টাস্কফোর্স তৈরি করবে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগ

কক্সবাজারের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে। সভায় মাদক চোরাচালান বন্ধে এই টাস্কফোর্সের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইয়াবার কারণে যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে, এটা আমরা লক্ষ্য করছি। মাদকের প্রসার রোধ করা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে থেমে না থেকে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকটি স্তরে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসার মূল হোতা, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মাদক বহনকারী বা ‘ক্যারিয়ার’। এসব ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

চোরাচালানের রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প

মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।’

কক্সবাজারের ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী এলাকা, পাহাড়ি পথ এবং উপকূলীয় জলপথ মাদক পাচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদক পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে নতুন উদ্যোগে শুধু স্থলপথ নয়, জলপথেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নেভি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে।’

এর ফলে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা ও নৌপথে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত তৎপরতা বাড়তে পারে।

বাহকদেরও চিহ্নিত করা হবে

মাদক চোরাচালানের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করে। এর মধ্যে মাদকের মূল অর্থদাতা বা কারবারি, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি থাকতে পারেন। সরকারের নতুন উদ্যোগে এই পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক চোরাচালানে যারা বাহক বা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বাহক পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করা গেলে মাদকের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব।

এই কারণে শীর্ষ কারবারিদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি মাদক পাচারের রুট ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত ও উপকূলে বাড়বে নজরদারি

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কক্সবাজার মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, অন্যদিকে বিস্তৃত উপকূল ও নাফ নদী—সব মিলিয়ে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এলাকাটি বিশেষ চ্যালেঞ্জের।

বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তের পাশাপাশি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন জলপথ ব্যবহার করেও মাদক পাচারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

এ কারণে নতুন পরিকল্পনায় স্থলভাগের পাশাপাশি জলপথে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

তবে মাদক চোরাচালান বন্ধে শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত—এসব বিষয়ও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুবসমাজ নিয়ে উদ্বেগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবার কারণে দেশের যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধ করাকে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাই শুধু চোরাচালান বন্ধ নয়, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা গেলেও দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা থাকলে মাদক ব্যবসার নতুন পথ তৈরির আশঙ্কা থাকে।

সভায় ছিলেন সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা

মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কক্সবাজারের মাদক পরিস্থিতি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কক্সবাজারে দুই দিনের সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে সন্ধ্যায় দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। পরে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করবেন তিনি।

এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুপুরে হিল ডাউন সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফর শেষে সন্ধ্যায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।