ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হারুন গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু ৪৯০ এআই ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কে আইন ভাঙলেই ‘অটো ফাইন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ ১৮৩ মিমি বৃষ্টিপাত টেকনাফে, বৃষ্টিপাত থাকতে পারে আরো ৫দিন : আবহাওয়া অফিস সৎ ও দক্ষ অফিসারদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক থেকে পা হারিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে উখিয়ার মরিচ্যার ফরিদ পরিবারকে খুঁজছে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র করতে চায় সরকার প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২ মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় আল-আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হারুন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।