ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান ফের ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি সমস্যা নিরসন করে সবাইকে ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে নিতে হবে: সেনাপ্রধান ইতিহাস গড়ে নকআউটে কেপ ভার্দে, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।