ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসিহীন আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা, ৪ গোল দিলো বলিভিয়াকে জামায়াত-আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই : উমামা ফাতেমা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস আজ ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫০০ টাকা! কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন হাসপাতাল থেকে হাতকড়াসহ পালালো অস্ত্র মামলার আসামী রোহিঙ্গা ইব্রাহিম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ : তদন্ত প্রতিবেদন জমা কুলসুমার সঙ্গে বাসটার্মিনালের হোটেলে উঠেছিল যুবক, পরে মিললো মরদেহ হাদির নাম মুছে ঢাবির হলের ফটকে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর নাম লোহাগাড়ায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির যাচাই-বাছাই কমিটি : প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ‘রায়’ সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ৯

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।