ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় ১৯ মামলার আসামী গ্রেপ্তার! বঙ্গোসাগরের ওপর সেই আলো ছিল ভারতীয় অত্যাধুনিক মিসাইল বঙ্গবন্ধুর সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম মোজাম্মেল হকের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্ব মা দিবস আজ পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই?

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।