দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর এক দিন আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বাড়ি দখল, হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দেন। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঐ বিবৃতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তথ্য পুলিশের কাছে সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা হয়। নতুন করে আলাদা কোনো তালিকা তৈরির বিষয় নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আগেও চলেছে, এখনো চলছে এবং সামনে তা আরো জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যে কোনো অভিযোগ পুলিশ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা ও গ্রেফতারের মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার জন্য কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে তার বিচার জনগণ করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই বলেছেন তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি, অথচ পরক্ষণেই বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের নিন্দা জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিক প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঐ ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধী হিসেবে যারা সেখানে গিয়েছিল, তাদের কারো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্রে সেই পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঐ ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
দুর্গাপূজায় অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি :এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যবহূত একটি অ্যাপ এবার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো অঘটন ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
জেলা পর্যায়ে অ্যাপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পুলিশের সদর দপ্তর থেকে মণ্ডপগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও নজরদারি থাকবে। মণ্ডপসংলগ্ন থানাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের টেলিফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোনো স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
টিটিএন ডেস্ক: 













