কমিটি ঘোষণা দিয়েও ইয়াবা সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাতিল হওয়া উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সেই মিজানুর রহমান এবার ইউনিয়ন পরিষদের ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ নিয়োগ পেতে তদবির বাণিজ্য শুরু করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের যে সব ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে সেখানে বিএনপি সমর্থিত সাবেক মেম্বার কিংবা সরাসরি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন যুবদলের এই নেতা, যিনি বাতিল হওয়া হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদল কমিটির সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সুত্রমতে, এই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারের মামলা রয়েছে । মাদক মামলায় তিনি প্রায় চার বছর জেলও খেটেছেন।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেছেন, যার জন্য যুবদলের ঘোষিত ইউনিয়ন কমিটি বাতিল করা হয়েছিল সেই মিজানুর রহমান এবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি সদস্য) পদমর্যাদায় ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ নিয়োগ পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে তদবির শুরু করেছেন।
তারা জানতে পেরেছেন, যুবদল নেতা মিজানুর রহমান লাখ টাকার মিশন নিয়ে তদবির শুরু করেছেন।
এদিকে পুলিশের পিসিপিআর মতে, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যার পাগলীরবিল এলাকার আলী আহমদ ও আমেনা বেগম দম্পতির ছেলে মিজানুর রহমানকে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগ থানা পুলিশ মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় তিনি প্রায় ৪ বছর কারাভোগ করেছেন। এছাড়াও নারী নির্যাতন মামলাসহ অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে মিজান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওয়ার্ড প্রশাসক হতে চাননা। আর তাঁর কোটি টাকার মিশনের প্রশ্নে তিনি বলেন,নিজের একটা বাড়ী নেই, মরিচ্যা বাজারে ছোট্ট একটা দোকান করে কোনোমতে সংসার চলে। সেখানে টাকার মিশন নিয়ে নামার প্রশ্নই আসে না। একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে আওয়ামীলীগের আমলে তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলা হয় ঢাকায়। তখন তিনি মাইক্রোবাসের ড্রাইভার ছিলেন। ঢাকায় ভাড়া নিয়ে গেলে সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাতে আসামী করা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















