ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত লোহাগাড়ার চরম্বায় বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা কক্সবাজার পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র আত্মপ্রকাশ, সোমবার মানববন্ধন অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের সমীহ জাগানিয়া অর্জন.. জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা সমিতিপাড়ার সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরাফাত গ্রেফতার কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ : যাত্রী আহত বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মান বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাপার স্মারকলিপি চকরিয়ায় মিষ্টিতে “তেলাপোকা”, নানা অসংগতি : ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলায় নিহত ১৪ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, পেশাগত যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
সম্পাদকীয়

হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন?

একটি পরিবার। বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা। অসংখ্য প্রার্থনা, চিকিৎসা, সামাজিক চাপ আর অগণিত মানসিক যুদ্ধের পর ঘরে আসে একটি সন্তান। সেই সন্তানই হয়ে ওঠে পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার কারণ, ভবিষ্যতের আলো। অথচ মাত্র দশ মাস বয়সে হামে আক্রান্ত হয়ে সেই শিশুর মৃত্যু!

এই একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামষ্টিক সচেতনতার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

একসময় আমরা ভেবেছিলাম হাম অতীতের রোগ। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু আজ বাস্তবতা আবারও আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, কেন একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগে এখনো শিশু মারা যায়? কেন একটি মা-বাবাকে ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সন্তানের লাশ বুকে নিতে হয়?

হাম শুধু একটি ভাইরাস নয়; এটি আমাদের অবহেলা, বৈষম্য ও দুর্বল জনস্বাস্থ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর-গ্রাম বিভাজন, অপুষ্টি, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, সবকিছু মিলেই এই বিপদকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে। অনেক এলাকায় এখনো সময়মতো টিকা পৌঁছায় না, আবার কোথাও সচেতনতার অভাবে অভিভাবকেরা টিকা নিতে দেরি করেন। ফল ভোগ করে নিরীহ শিশুরা।

আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম। হাম শেষ না হতেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক।
একদিকে শিশুর জ্বর, অন্যদিকে মশার উপদ্রব। হাসপাতালের বেড সংকট, চিকিৎসার ব্যয়, মানুষের উদ্বেগ, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যু ও দুর্ভোগের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সংবাদে শিশু মৃত্যুর খবর দেখি, কিছুক্ষণ কষ্ট পাই, তারপর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু যে মা তার একমাত্র সন্তান হারান, তার কাছে পৃথিবী আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা। টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া, এগুলো আর কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ব।

আমাদেরও দায় আছে। গুজব নয়, বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য কেবল সরকারের একার বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।

একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের বড় বড় গল্পের আড়ালেও মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর। আজ হাম, কাল ডেঙ্গু, এভাবে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কি আমাদের বেঁচে থাকতে হবে?

প্রশ্নটি এখন শুধু একটি পরিবারের নয়; পুরো জাতির।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২

সম্পাদকীয়

হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন?

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

একটি পরিবার। বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা। অসংখ্য প্রার্থনা, চিকিৎসা, সামাজিক চাপ আর অগণিত মানসিক যুদ্ধের পর ঘরে আসে একটি সন্তান। সেই সন্তানই হয়ে ওঠে পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার কারণ, ভবিষ্যতের আলো। অথচ মাত্র দশ মাস বয়সে হামে আক্রান্ত হয়ে সেই শিশুর মৃত্যু!

এই একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামষ্টিক সচেতনতার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

একসময় আমরা ভেবেছিলাম হাম অতীতের রোগ। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু আজ বাস্তবতা আবারও আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, কেন একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগে এখনো শিশু মারা যায়? কেন একটি মা-বাবাকে ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সন্তানের লাশ বুকে নিতে হয়?

হাম শুধু একটি ভাইরাস নয়; এটি আমাদের অবহেলা, বৈষম্য ও দুর্বল জনস্বাস্থ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর-গ্রাম বিভাজন, অপুষ্টি, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, সবকিছু মিলেই এই বিপদকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে। অনেক এলাকায় এখনো সময়মতো টিকা পৌঁছায় না, আবার কোথাও সচেতনতার অভাবে অভিভাবকেরা টিকা নিতে দেরি করেন। ফল ভোগ করে নিরীহ শিশুরা।

আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম। হাম শেষ না হতেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক।
একদিকে শিশুর জ্বর, অন্যদিকে মশার উপদ্রব। হাসপাতালের বেড সংকট, চিকিৎসার ব্যয়, মানুষের উদ্বেগ, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যু ও দুর্ভোগের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সংবাদে শিশু মৃত্যুর খবর দেখি, কিছুক্ষণ কষ্ট পাই, তারপর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু যে মা তার একমাত্র সন্তান হারান, তার কাছে পৃথিবী আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা। টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া, এগুলো আর কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ব।

আমাদেরও দায় আছে। গুজব নয়, বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য কেবল সরকারের একার বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।

একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের বড় বড় গল্পের আড়ালেও মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর। আজ হাম, কাল ডেঙ্গু, এভাবে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কি আমাদের বেঁচে থাকতে হবে?

প্রশ্নটি এখন শুধু একটি পরিবারের নয়; পুরো জাতির।