ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে জেলা ছাত্রদলের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইয়াবা লুট চক্রের রবিউল ইসলাম বাবুর নতুন কৌশল! তথ্য উদ্ধারকারী জিল্লুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা : স্বীকার করলেন ওসি চকরিয়ার কৈয়ারবিলে বন্যার পানিতে কিশোর নিখোঁজ পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ
সম্পাদকীয়

হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন?

একটি পরিবার। বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা। অসংখ্য প্রার্থনা, চিকিৎসা, সামাজিক চাপ আর অগণিত মানসিক যুদ্ধের পর ঘরে আসে একটি সন্তান। সেই সন্তানই হয়ে ওঠে পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার কারণ, ভবিষ্যতের আলো। অথচ মাত্র দশ মাস বয়সে হামে আক্রান্ত হয়ে সেই শিশুর মৃত্যু!

এই একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামষ্টিক সচেতনতার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

একসময় আমরা ভেবেছিলাম হাম অতীতের রোগ। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু আজ বাস্তবতা আবারও আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, কেন একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগে এখনো শিশু মারা যায়? কেন একটি মা-বাবাকে ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সন্তানের লাশ বুকে নিতে হয়?

হাম শুধু একটি ভাইরাস নয়; এটি আমাদের অবহেলা, বৈষম্য ও দুর্বল জনস্বাস্থ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর-গ্রাম বিভাজন, অপুষ্টি, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, সবকিছু মিলেই এই বিপদকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে। অনেক এলাকায় এখনো সময়মতো টিকা পৌঁছায় না, আবার কোথাও সচেতনতার অভাবে অভিভাবকেরা টিকা নিতে দেরি করেন। ফল ভোগ করে নিরীহ শিশুরা।

আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম। হাম শেষ না হতেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক।
একদিকে শিশুর জ্বর, অন্যদিকে মশার উপদ্রব। হাসপাতালের বেড সংকট, চিকিৎসার ব্যয়, মানুষের উদ্বেগ, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যু ও দুর্ভোগের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সংবাদে শিশু মৃত্যুর খবর দেখি, কিছুক্ষণ কষ্ট পাই, তারপর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু যে মা তার একমাত্র সন্তান হারান, তার কাছে পৃথিবী আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা। টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া, এগুলো আর কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ব।

আমাদেরও দায় আছে। গুজব নয়, বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য কেবল সরকারের একার বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।

একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের বড় বড় গল্পের আড়ালেও মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর। আজ হাম, কাল ডেঙ্গু, এভাবে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কি আমাদের বেঁচে থাকতে হবে?

প্রশ্নটি এখন শুধু একটি পরিবারের নয়; পুরো জাতির।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন

সম্পাদকীয়

হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন?

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

একটি পরিবার। বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা। অসংখ্য প্রার্থনা, চিকিৎসা, সামাজিক চাপ আর অগণিত মানসিক যুদ্ধের পর ঘরে আসে একটি সন্তান। সেই সন্তানই হয়ে ওঠে পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার কারণ, ভবিষ্যতের আলো। অথচ মাত্র দশ মাস বয়সে হামে আক্রান্ত হয়ে সেই শিশুর মৃত্যু!

এই একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামষ্টিক সচেতনতার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

একসময় আমরা ভেবেছিলাম হাম অতীতের রোগ। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু আজ বাস্তবতা আবারও আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, কেন একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগে এখনো শিশু মারা যায়? কেন একটি মা-বাবাকে ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সন্তানের লাশ বুকে নিতে হয়?

হাম শুধু একটি ভাইরাস নয়; এটি আমাদের অবহেলা, বৈষম্য ও দুর্বল জনস্বাস্থ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর-গ্রাম বিভাজন, অপুষ্টি, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, সবকিছু মিলেই এই বিপদকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে। অনেক এলাকায় এখনো সময়মতো টিকা পৌঁছায় না, আবার কোথাও সচেতনতার অভাবে অভিভাবকেরা টিকা নিতে দেরি করেন। ফল ভোগ করে নিরীহ শিশুরা।

আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম। হাম শেষ না হতেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক।
একদিকে শিশুর জ্বর, অন্যদিকে মশার উপদ্রব। হাসপাতালের বেড সংকট, চিকিৎসার ব্যয়, মানুষের উদ্বেগ, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যু ও দুর্ভোগের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সংবাদে শিশু মৃত্যুর খবর দেখি, কিছুক্ষণ কষ্ট পাই, তারপর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু যে মা তার একমাত্র সন্তান হারান, তার কাছে পৃথিবী আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা। টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া, এগুলো আর কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ব।

আমাদেরও দায় আছে। গুজব নয়, বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য কেবল সরকারের একার বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।

একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের বড় বড় গল্পের আড়ালেও মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর। আজ হাম, কাল ডেঙ্গু, এভাবে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কি আমাদের বেঁচে থাকতে হবে?

প্রশ্নটি এখন শুধু একটি পরিবারের নয়; পুরো জাতির।