ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে? আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ শাহপরীরদ্বীপে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কবিরের, শনাক্ত করল পরিবার টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ এসআই দুলালের বিরুদ্ধে: অভিযোগ সঠিক নয় – ওসি লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকারের গোপন চেম্বারে ১৬ হাজার ইয়াবা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪ আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ম্যাজিস্ট্রেট এড়িয়ে গেলেও ডিসি বললেন- অগোচরে চলছিল প্যারাসেইলিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, আসছে আরও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে ৭৬ কেজি গাঁজা, একাধিক মামলার আসামিসহ আটক ২ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে?

কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটন, অবকাঠামো ও রেল যোগাযোগের অন্যতম বড় বিনিয়োগের প্রতীক। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই স্টেশন দেশের প্রথম আইকনিক গ্রিন রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে নির্মিত হয়েছে। প্রতিবছর কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের যাতায়াতের কারণে এটি দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যাত্রীকেন্দ্রগুলোর একটি।

সম্প্রতি রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু হবে এবং স্টেশনটির পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্র কি এতে লাভবান হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব কমে যেতে পারে? পর্যটন, যাত্রীসেবা ও বহুমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই স্টেশনকে ঘিরে যে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন—এই সম্ভাবনার ‘লাভের গুড়’ শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে যাবে?

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র। সড়কপথের পাশাপাশি রেল চালু হওয়ার পর পর্যটকদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হয়েছে। ফলে এই স্টেশনটি কেবল যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়, বরং দেশের পর্যটন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যে আয় হতে পারে, তার উৎস শুধু ট্রেনের টিকিট নয়। যাত্রী ভাড়া, প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন ব্যবহার ফি, দোকান ও বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া, আবাসিক হোটেল, ফুড কোর্ট, শপিং স্পেস, বিজ্ঞাপন, পার্কিং, সম্মেলন ও ইভেন্টসহ বিভিন্ন উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবেও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

ছয়তলা এই স্টেশন ভবনে রয়েছে ৩৯ কক্ষের আবাসিক হোটেল, ফুড কোর্ট, শপিং স্পেস, কনফারেন্স হল, অফিস স্পেস, দোকানপাট, এটিএম বুথ, ডাকঘর, ভিআইপি লাউঞ্জ এবং শিশু যত্ন কেন্দ্র। এসব সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে টিকিট বিক্রির বাইরেও বড় অঙ্কের রাজস্ব অর্জন সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশের বড় রেলস্টেশনগুলোর আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে টিকিটের বাইরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে। কক্সবাজার স্টেশনও একই ধরনের সম্ভাবনা বহন করছে।

তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মানেই রাষ্ট্রের ক্ষতি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। একদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষ পরিচালনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ, বাণিজ্যিক স্পেসের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। সরকার যদি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী চুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রও লাভবান হতে পারে।

অন্যদিকে ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র কম আয় পেতে পারে, লাভজনক বাণিজ্যিক অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য যাত্রীসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আয় সরকার হারাতে পারে। তাই পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, মেয়াদ, রাজস্ব বণ্টন এবং সরকারি তদারকির ওপর।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, প্রতি জোড়া বেসরকারি ট্রেনের বিপরীতে সরকার বছরে মাত্র ৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। তবে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আর্থিক কাঠামো প্রকাশ না হওয়ায় এই দাবির সত্যতা বা যথেষ্টতা এখনই নিশ্চিতভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। চুক্তির মেয়াদ, পরিচালন ব্যয়, বিনিয়োগ, রাজস্ব বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ আয় কারা পাবে—এসব তথ্য ছাড়া প্রকল্পটিকে লাভজনক বা অলাভজনক বলা বস্তুনিষ্ঠ হবে না।

অন্যদিকে, রাষ্ট্র নিজেই যদি দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আধুনিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্টেশনটি পরিচালনা করতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারেই জমা হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে বাস্তবতা হলো, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ফলে শুধু সরকারি বা শুধু বেসরকারি—কোনো একটিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোত্তম বলা যায় না।

কক্সবাজার দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন অঞ্চল হওয়ায় অনেকেই আলাদা পর্যটন কর্তৃপক্ষ বা বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকলে পর্যটন, রেল, পরিবহন, সৈকত, বাণিজ্য ও নগর ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হতে পারে। তবে এটি একটি নীতিগত প্রস্তাব, যার বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিনিয়োগ। এটি শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনকও হতে পারে, আবার সঠিক পরিকল্পনা ও চুক্তি না থাকলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রয়োজন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা যেন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাধারণ যাত্রীর সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে?

সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে?

আপডেট সময় : ১০:৪২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটন, অবকাঠামো ও রেল যোগাযোগের অন্যতম বড় বিনিয়োগের প্রতীক। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই স্টেশন দেশের প্রথম আইকনিক গ্রিন রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে নির্মিত হয়েছে। প্রতিবছর কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের যাতায়াতের কারণে এটি দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যাত্রীকেন্দ্রগুলোর একটি।

সম্প্রতি রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু হবে এবং স্টেশনটির পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্র কি এতে লাভবান হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব কমে যেতে পারে? পর্যটন, যাত্রীসেবা ও বহুমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই স্টেশনকে ঘিরে যে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন—এই সম্ভাবনার ‘লাভের গুড়’ শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে যাবে?

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র। সড়কপথের পাশাপাশি রেল চালু হওয়ার পর পর্যটকদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হয়েছে। ফলে এই স্টেশনটি কেবল যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়, বরং দেশের পর্যটন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যে আয় হতে পারে, তার উৎস শুধু ট্রেনের টিকিট নয়। যাত্রী ভাড়া, প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন ব্যবহার ফি, দোকান ও বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া, আবাসিক হোটেল, ফুড কোর্ট, শপিং স্পেস, বিজ্ঞাপন, পার্কিং, সম্মেলন ও ইভেন্টসহ বিভিন্ন উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবেও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

ছয়তলা এই স্টেশন ভবনে রয়েছে ৩৯ কক্ষের আবাসিক হোটেল, ফুড কোর্ট, শপিং স্পেস, কনফারেন্স হল, অফিস স্পেস, দোকানপাট, এটিএম বুথ, ডাকঘর, ভিআইপি লাউঞ্জ এবং শিশু যত্ন কেন্দ্র। এসব সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে টিকিট বিক্রির বাইরেও বড় অঙ্কের রাজস্ব অর্জন সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশের বড় রেলস্টেশনগুলোর আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে টিকিটের বাইরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে। কক্সবাজার স্টেশনও একই ধরনের সম্ভাবনা বহন করছে।

তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মানেই রাষ্ট্রের ক্ষতি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। একদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষ পরিচালনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ, বাণিজ্যিক স্পেসের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। সরকার যদি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী চুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রও লাভবান হতে পারে।

অন্যদিকে ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র কম আয় পেতে পারে, লাভজনক বাণিজ্যিক অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য যাত্রীসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আয় সরকার হারাতে পারে। তাই পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, মেয়াদ, রাজস্ব বণ্টন এবং সরকারি তদারকির ওপর।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, প্রতি জোড়া বেসরকারি ট্রেনের বিপরীতে সরকার বছরে মাত্র ৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। তবে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আর্থিক কাঠামো প্রকাশ না হওয়ায় এই দাবির সত্যতা বা যথেষ্টতা এখনই নিশ্চিতভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। চুক্তির মেয়াদ, পরিচালন ব্যয়, বিনিয়োগ, রাজস্ব বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ আয় কারা পাবে—এসব তথ্য ছাড়া প্রকল্পটিকে লাভজনক বা অলাভজনক বলা বস্তুনিষ্ঠ হবে না।

অন্যদিকে, রাষ্ট্র নিজেই যদি দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আধুনিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্টেশনটি পরিচালনা করতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারেই জমা হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে বাস্তবতা হলো, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ফলে শুধু সরকারি বা শুধু বেসরকারি—কোনো একটিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোত্তম বলা যায় না।

কক্সবাজার দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন অঞ্চল হওয়ায় অনেকেই আলাদা পর্যটন কর্তৃপক্ষ বা বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকলে পর্যটন, রেল, পরিবহন, সৈকত, বাণিজ্য ও নগর ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হতে পারে। তবে এটি একটি নীতিগত প্রস্তাব, যার বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিনিয়োগ। এটি শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনকও হতে পারে, আবার সঠিক পরিকল্পনা ও চুক্তি না থাকলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রয়োজন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা যেন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাধারণ যাত্রীর সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করে।