ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ পুলিশের অভিযানে পেকুয়ায় ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ​টেকনাফের সাবরাংয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ড্রেজার ও ৩টি ড্রাম ট্রাক জব্দ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং লামায় জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪৫ ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১০ ভিকটিম উদ্ধার, গ্রেফতার ১ লোহাগাড়ায় মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা, সাবেক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনের কারাদণ্ড দুদকের মামলায় টেকনাফ ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশরের কারাদন্ড সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: মির্জা ফখরুল সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ 

অস্ট্রেলিয়ার একটি লাইব্রেরিতে ১৫০ বছর পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বাসিন্দা বইটি ফেরত দেন। লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

হাডসন বলেন, হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।

চিমনির কাছে কয়েক দশক পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ 

আপডেট সময় : ১২:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার একটি লাইব্রেরিতে ১৫০ বছর পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বাসিন্দা বইটি ফেরত দেন। লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

হাডসন বলেন, হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।

চিমনির কাছে কয়েক দশক পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

সূত্র: এনডিটিভি