ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ 

অস্ট্রেলিয়ার একটি লাইব্রেরিতে ১৫০ বছর পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বাসিন্দা বইটি ফেরত দেন। লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

হাডসন বলেন, হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।

চিমনির কাছে কয়েক দশক পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ 

আপডেট সময় : ১২:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার একটি লাইব্রেরিতে ১৫০ বছর পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বাসিন্দা বইটি ফেরত দেন। লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

হাডসন বলেন, হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।

চিমনির কাছে কয়েক দশক পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

সূত্র: এনডিটিভি