ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী নতুন প্রজ্ঞাপনে মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন যে পরিমাণ সম্মানি পাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস নেপালে বাংলাদেশিদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি চকরিয়ায় অপহরণের ৪ ঘন্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার রামুতে তরুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা মেরিন ড্রাইভে চান্দের গাড়ি দুর্ঘটনায় ঢাকার ব্যবসায়ী নিহত, স্ত্রী-সন্তানসহ আহত ১৩

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

ঝিনুক আকৃতির ছাদ। ওপরে স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। সাগরঘেঁষা কক্সবাজার বিমানবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নকশা করা হয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল। এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রীভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, পুরোনো টার্মিনালে ফ্লাইটপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০, কখনো সাড়ে ৫০০ যাত্রীও হয়ে যেত। ফলে টার্মিনালের ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন টার্মিনালে যাত্রীরা বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত কাউন্টার ও বসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেটিও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। পাশাপাশি রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা। এর অনুমোদিত ব্যয় প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্টরাও। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম টিটিএনকে বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ইউএস-বাংলা নয়, সব এয়ারলাইনসের জন্যই ইতিবাচক। এর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও ভালো সেবা ও সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে তা এয়ারলাইনস ও যাত্রী উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মুমিনুল ইসলাম বলেন, আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনালটি অনেক বড় ও সুন্দর। এখানে যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে হচ্ছে।

আরেক যাত্রী রুবাইয়াত জাহান বলেন, নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি পেয়েছি চেক-ইন কাউন্টার, বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে।’

এদিকে অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনও খুব কম। পুরোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ কক্সবাজারে চলাচল করতে পারত না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের ঢাকায় অবস্থান করে এরপর কক্সবাজার আসতে হতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বেবিচক জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পুরোনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ফুট। পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে তা ৯ হাজার ফুট করা হয়। বর্তমানে এ রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুট।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

ঝিনুক আকৃতির ছাদ। ওপরে স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। সাগরঘেঁষা কক্সবাজার বিমানবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নকশা করা হয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল। এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রীভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, পুরোনো টার্মিনালে ফ্লাইটপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০, কখনো সাড়ে ৫০০ যাত্রীও হয়ে যেত। ফলে টার্মিনালের ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন টার্মিনালে যাত্রীরা বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত কাউন্টার ও বসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেটিও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। পাশাপাশি রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা। এর অনুমোদিত ব্যয় প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্টরাও। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম টিটিএনকে বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ইউএস-বাংলা নয়, সব এয়ারলাইনসের জন্যই ইতিবাচক। এর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও ভালো সেবা ও সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে তা এয়ারলাইনস ও যাত্রী উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মুমিনুল ইসলাম বলেন, আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনালটি অনেক বড় ও সুন্দর। এখানে যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে হচ্ছে।

আরেক যাত্রী রুবাইয়াত জাহান বলেন, নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি পেয়েছি চেক-ইন কাউন্টার, বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে।’

এদিকে অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনও খুব কম। পুরোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ কক্সবাজারে চলাচল করতে পারত না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের ঢাকায় অবস্থান করে এরপর কক্সবাজার আসতে হতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বেবিচক জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পুরোনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ফুট। পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে তা ৯ হাজার ফুট করা হয়। বর্তমানে এ রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুট।