ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্টী কক্সবাজার জেলা সংসদের আয়োজনে কক্সবাজার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রয়াত কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কক্সবাজার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় অমিত চৌধুরী’র স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী বদিউল আলম,কবি আসিফ নূর, কবি মানিক বৈরাগী, সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার সোহেল।

এসময় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে উদীচী, খেলাঘর আসর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, কবিকুল সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ।

১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল কক্সবাজার শহরে জন্মগ্রহণ করেন অমিত চৌধুরী। তার প্রকৃত নাম সতীন্দ্রনাথ দে। বন্ধু মহলে তিনি ‘সন্তোষ’ নামে পরিচিত থাকলেও সাহিত্যজগতে অমিত চৌধুরী নামেই পরিচিতি পান।

তার বাবা রমেশ চন্দ্র দের আদি নিবাস সীতাকুণ্ড। ১৯৪৩ সালের শুরুতে তিনি কক্সবাজারে চলে আসেন।
অমিত চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কক্সবাজার দখলে নিলে পরিবারের সঙ্গে তিনি বার্মার আরাকানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফিরে এসে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হন।

১৯৭৩ সালে তিনি সম্পাদনা করেন ‘বৈজয়ন্তী’। ১৯৭৬ সাল থেকে সম্পাদনা করে আসছিলেন ‘মূল্যায়ন’ সাহিত্যপত্রিকা। কবিতা, ছড়া, লিরিক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘চোখে রেখেছি তোমার চোখে’, ‘শিপ্রা যমুনার ধারা’, ‘জুই নয় পৃথ্বী’, ‘রাজা আসছে রাজা কার’, ‘ঘাতক কসাই মহিমাকে ফেরত চাই’, ‘মরণ বাংলাদেশটায়’ ও ‘ধোঁকাবাজ ধোঁকারাজ’ উল্লেখযোগ্য।

কবি অমিত চৌধুরী সাহিত্যে অবদানের জন্য কবিতা বাংলা, দ্বিতীয় দরিয়া নগর আন্তর্জাতিক কবিতা মেলা পুরুষ্কার, শ্রুতি আবৃত্তি পরিষদ সাহিত্য সম্মাননা এবং কক্সবাজারের অন্যতম বই বিপনি ইস্টিশন এর সমুদ্র বইমেলা সাহিত্য সম্মাননা পেয়েছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার রাতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে কবির শেষকৃত্যে অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক

কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্টী কক্সবাজার জেলা সংসদের আয়োজনে কক্সবাজার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রয়াত কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কক্সবাজার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় অমিত চৌধুরী’র স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী বদিউল আলম,কবি আসিফ নূর, কবি মানিক বৈরাগী, সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার সোহেল।

এসময় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে উদীচী, খেলাঘর আসর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, কবিকুল সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ।

১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল কক্সবাজার শহরে জন্মগ্রহণ করেন অমিত চৌধুরী। তার প্রকৃত নাম সতীন্দ্রনাথ দে। বন্ধু মহলে তিনি ‘সন্তোষ’ নামে পরিচিত থাকলেও সাহিত্যজগতে অমিত চৌধুরী নামেই পরিচিতি পান।

তার বাবা রমেশ চন্দ্র দের আদি নিবাস সীতাকুণ্ড। ১৯৪৩ সালের শুরুতে তিনি কক্সবাজারে চলে আসেন।
অমিত চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কক্সবাজার দখলে নিলে পরিবারের সঙ্গে তিনি বার্মার আরাকানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফিরে এসে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হন।

১৯৭৩ সালে তিনি সম্পাদনা করেন ‘বৈজয়ন্তী’। ১৯৭৬ সাল থেকে সম্পাদনা করে আসছিলেন ‘মূল্যায়ন’ সাহিত্যপত্রিকা। কবিতা, ছড়া, লিরিক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘চোখে রেখেছি তোমার চোখে’, ‘শিপ্রা যমুনার ধারা’, ‘জুই নয় পৃথ্বী’, ‘রাজা আসছে রাজা কার’, ‘ঘাতক কসাই মহিমাকে ফেরত চাই’, ‘মরণ বাংলাদেশটায়’ ও ‘ধোঁকাবাজ ধোঁকারাজ’ উল্লেখযোগ্য।

কবি অমিত চৌধুরী সাহিত্যে অবদানের জন্য কবিতা বাংলা, দ্বিতীয় দরিয়া নগর আন্তর্জাতিক কবিতা মেলা পুরুষ্কার, শ্রুতি আবৃত্তি পরিষদ সাহিত্য সম্মাননা এবং কক্সবাজারের অন্যতম বই বিপনি ইস্টিশন এর সমুদ্র বইমেলা সাহিত্য সম্মাননা পেয়েছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার রাতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে কবির শেষকৃত্যে অনুষ্ঠিত হয়।