ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে
মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার

মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।