ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো কউকের নতুন চেয়ারম্যান পেকুয়ার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাবেন বাংলাদেশি তারকা সঞ্জয় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত নেতার অপপ্রচারে কক্সবাজার যুবদলের ব্যাখ্যা টেকনাফ পৌর জামায়াতের সভায় জেলা আমীর আনোয়ারী – “সীমান্ত জনপদের অধিবাসীরা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে “ কক্সবাজারে মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বয় সভা: সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান ১৯৭৯ সালে রেজুখালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরল আলোকচিত্র
মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা

মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।