ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডাম্পার চালকের মৃত্যু লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ে:ভাইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বন্যাদুর্গত কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় তিন মাসের জন্য ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন পাস বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম রাজা পালংয়ের প্রয়াত জননেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের সহধর্মিণীর মৃত্যু : জানাজা বুধবার পেকুয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়লো আমজাদের ড্রাম ট্রাক জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায়

মা দিবসে মায়ের আকুতি

মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

“আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, ভিক্ষা করি, নানা দপ্তরে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে আমার… আমার স্বামী বৃদ্ধ, ঘরবন্দি, পঙ্গু। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন… আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসলাম খাতুন। তার ছেলে দিল মোহাম্মদ বর্তমানে মায়ানমারের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাজের প্রলোভনে দালালচক্র দিল মোহাম্মদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগরপথে একটি বোটে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।

সম্প্রতি মায়ানমারের কারাগার থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিল মোহাম্মদ জানান, তিনি বর্তমানে মায়ানমারের “আইক্কাব বড় জেলখানা”, মলইকুম, ওয়ার্ড নং-১ এলাকায় বন্দি আছেন। তার কারাবন্দি নম্বরও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কাছে ছেলেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও সহযোগিতা চেয়েছেন মা ইসলাম খাতুন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে দিল মোহাম্মদকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সঠিক পাওয়া গেছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নানা প্রলোভনে তরুণদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে বিদেশি কারাগারে বন্দি হচ্ছেন।
অসহায় মা এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ছেলেকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।