ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

আপডেট সময় : ১১:০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।