চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।
এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।
তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।
বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।
মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।
তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
শাহেদ হোছাইন মুবিন: 























