ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে বদরখালী কলোনীজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে থেকে গোল্ডেন A+ পেল সাদিয়া আফরিন কনক ‎এসএসসি পরীক্ষায় রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের সাফল্য: শতভাগ পাস, ৮ জন জিপিএ-৫ ‎ সাংবাদিককে হুমকি : মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা ও প্রতিবাদ এসএসসি পরীক্ষায় সাংবাদিক কন্যা তানিশার সাফল্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর পিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এড. রেজা কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে পোনা বিতরণ মৎস্য অধিদপ্তরের ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় মহেশখালীর রহিম বাদশা কারাগারে সীমান্তের ওরা ২১ জন, ৫ লাখ করে মাদক ব্যবসার শেয়ার! রামুতে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯.২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০২ জন, শীর্ষে বাঁকখালী ও ক্যান্টনমেন্ট স্কুল শিক্ষক দম্পতির কন্যা ফাউজিয়ার সাফল্য, এসএসসিতে গোল্ডেন A+ সর্বোচ্চ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা পেলেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন, যা জানা গেল চকরিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত ২ এবারও ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে ছাত্রীরা

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

আপডেট সময় : ১১:০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।