কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন। নিহত বেলাল উদ্দিন জিহাদ (২২), প্রকাশ বাদল রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী আখিঁ বেগম (২৫) পলাতক।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি একতলা ভবনের কক্ষ থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে সন্দেহ হয়। পরে তালাবদ্ধ কক্ষ খুলে কাঁথা ও বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় লাশ দেখতে পান তারা।
রামু থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মো. ফরিদ জানান, ঘটনাস্থলের আলামত ও মরদেহের অবস্থান থেকে প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সময়কাল নির্ধারণ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ, আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ওই নারী বাসাটি ভাড়া নেন। ভাড়ার সময় তিনি পরিচয় দেন, তার বাবা-মা ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে আছেন এবং স্বামী বাইরে কাজ করেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্থায়ী ঠিকানার যাচাই কতটা করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন, বাসায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির আসা-যাওয়া ছিল। তাদের কখনো মামা, কখনো খালাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিক নাম ব্যবহার করতেন। পুলিশ এসব তথ্য যাচাই করছে।
প্রতিবেশী কয়েকজন মহিলার দাবী, হামিদুল হক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত ও পলাতক স্ত্রীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ওই বাসা থেকেই নিয়মিত টিকটক ভিডিও তৈরি করা হতো। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, অনলাইন যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জাল এই ঘটনায় কোনো ভূমিকা রেখেছে কিনা, তা বিশ্লেষণ করা জরুরি।
নিহতের বাবা আবুল কাশেমের অভিযোগ তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি স্বাভাবিক পারিবারিক ঝগড়া নয়, পেছনে বড় কিছু আছে। আমার ছেলেকে কিছুদিন আগে মেনে ফেলার হুমকি দিয়েছিলো তার বউ” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আখিঁ বেগমের পূর্বে একাধিক বিয়ে হয়েছিল বলে এলাকায় প্রচলিত আছে। পুলিশ বলছে, তার পূর্বের বৈবাহিক ইতিহাস ও সামাজিক যোগাযোগও যাচাই করা হচ্ছে।
রামুর এই ঘটনাটি এখন কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি ভাড়া বাসা ব্যবস্থাপনায় যাচাই-বাছাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিল বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে আনছে। ময়নাতদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলাফলই পরবর্তী অগ্রগতির দিক নির্ধারণ করবে।
আনিস নাঈম 























