ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি কক্সবাজারে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী: পরিদর্শন করবেন এসপিএমসহ মেগা প্রকল্প ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন লামায় মাতামুহুরি নদীতে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজে চালু হলো গনিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স নৌবাহিনীর অভিযানে ৭২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ পাকস্থলীতে ইয়াবা, দুই যুবক আটক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পিকআপের যাত্রী নিহত ঋণের বোঝা,পারিবারিক কলহ,রামুতে ওড়না পেঁচিয়ে যুবকের আত্মহত্যা! কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে-সেতু সচিব… আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলে শত পরিবারে কান্না আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,নিখোঁজ পেকুয়ার ১২জন

ছয় পেরিয়ে সাতে: কথা বলার দায় আরও বড়

“ছয় পেরিয়ে আমরা পা রাখছি সাতে।”সময় হিসেবে এটি একটি সংখ্যা মাত্র নয়; একটি সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাত বছর মানে; টিকে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার সাহস অর্জন করা।

দি টেরিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন) যাত্রা শুরু করেছিল একটি বিশ্বাস নিয়ে; সংবাদ শুধু ঘটনা নয়, সংবাদ হলো মানুষের কথা। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা দিনে-রাতে পাঠকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

এই সাত বছরে আমরা শিখেছি, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটনের গল্পে সীমাবদ্ধ করলে সত্য অসম্পূর্ণ থাকে। তাই আমরা কথা বলেছি পর্যটনের পাশাপাশি জেলে পল্লীর জীবন নিয়ে, লবণ চাষিদের ঘাম ঝরানো শ্রম নিয়ে, পান–সুপারি চাষিদের নীরব সংগ্রাম নিয়ে। আমরা কথা বলেছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে, নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও অংশ গ্রহণের বিষয়ে।

কিন্তু আমাদের দায়িত্ব এখানেই থেমে যায়নি। ভূগোল আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে স্থানীয় ঘটনাও অনেক সময় বৈশ্বিক ইঙ্গিত বহন করে। তাই আমরা কথা বলেছি ভূরাজনীতির; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ট্র্যাজেডি ও তার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, সীমান্তের নীরব উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে।

আমরা চেষ্টা করেছি আবেগে নয়, বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে। কারণ সংবাদ যদি কেবল আবেগে ভাসে, তবে তা দিকনির্দেশনা হারায়। টিটিএন বিশ্বাস করে, দেশ মানে শুধু রাজধানী নয়, জনগণ মানে শুধু সংখ্যা নয়। দেশ মানে প্রান্তিক মানুষ, সীমান্তের উদ্বেগ, মাঠের শ্রম আর নীরব প্রশ্ন গুলো, যেগুলো অনেক সময় শিরোনাম হয় না।

সাত বছরে এসে আমরা দাবি করছি না যে সব ঠিক করেছি। আমরা শুধু বলছি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি। ভুল থেকে শিখেছি, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, আর চেষ্টা করেছি সত্যের পাশে থাকতে।

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার আরও স্পষ্ট, আমরা খবর দেব, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দেব প্রেক্ষাপট। আমরা প্রশ্ন করব, কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতে। আমরা কথা বলব, দেশের ও জনগণের।

ছয় পেরিয়ে সাতে এসে তাই বলি, সাথে থাকুন দিনে–রাতে। কারণ সত্যের পথ দীর্ঘ, আর সেই পথে হাঁটতে পাঠকের সঙ্গই সবচেয়ে বড় শক্তি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় পেরিয়ে সাতে: কথা বলার দায় আরও বড়

আপডেট সময় : ০১:১৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

“ছয় পেরিয়ে আমরা পা রাখছি সাতে।”সময় হিসেবে এটি একটি সংখ্যা মাত্র নয়; একটি সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাত বছর মানে; টিকে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার সাহস অর্জন করা।

দি টেরিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন) যাত্রা শুরু করেছিল একটি বিশ্বাস নিয়ে; সংবাদ শুধু ঘটনা নয়, সংবাদ হলো মানুষের কথা। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা দিনে-রাতে পাঠকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

এই সাত বছরে আমরা শিখেছি, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটনের গল্পে সীমাবদ্ধ করলে সত্য অসম্পূর্ণ থাকে। তাই আমরা কথা বলেছি পর্যটনের পাশাপাশি জেলে পল্লীর জীবন নিয়ে, লবণ চাষিদের ঘাম ঝরানো শ্রম নিয়ে, পান–সুপারি চাষিদের নীরব সংগ্রাম নিয়ে। আমরা কথা বলেছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে, নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও অংশ গ্রহণের বিষয়ে।

কিন্তু আমাদের দায়িত্ব এখানেই থেমে যায়নি। ভূগোল আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে স্থানীয় ঘটনাও অনেক সময় বৈশ্বিক ইঙ্গিত বহন করে। তাই আমরা কথা বলেছি ভূরাজনীতির; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ট্র্যাজেডি ও তার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, সীমান্তের নীরব উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে।

আমরা চেষ্টা করেছি আবেগে নয়, বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে। কারণ সংবাদ যদি কেবল আবেগে ভাসে, তবে তা দিকনির্দেশনা হারায়। টিটিএন বিশ্বাস করে, দেশ মানে শুধু রাজধানী নয়, জনগণ মানে শুধু সংখ্যা নয়। দেশ মানে প্রান্তিক মানুষ, সীমান্তের উদ্বেগ, মাঠের শ্রম আর নীরব প্রশ্ন গুলো, যেগুলো অনেক সময় শিরোনাম হয় না।

সাত বছরে এসে আমরা দাবি করছি না যে সব ঠিক করেছি। আমরা শুধু বলছি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি। ভুল থেকে শিখেছি, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, আর চেষ্টা করেছি সত্যের পাশে থাকতে।

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার আরও স্পষ্ট, আমরা খবর দেব, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দেব প্রেক্ষাপট। আমরা প্রশ্ন করব, কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতে। আমরা কথা বলব, দেশের ও জনগণের।

ছয় পেরিয়ে সাতে এসে তাই বলি, সাথে থাকুন দিনে–রাতে। কারণ সত্যের পথ দীর্ঘ, আর সেই পথে হাঁটতে পাঠকের সঙ্গই সবচেয়ে বড় শক্তি।