ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না উখিয়ায় নিখোঁজের ২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ৭ বছর বয়সী পূর্ণ বড়ুয়া, পরিবারের কাছে হস্তান্তর উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার রামুতে ​মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি জেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন নৌকা কক্সবাজার সিটি কলেজ এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুবিন আটক রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ, ১৮ ঘণ্টা পর শামীমের মরদেহ উদ্ধার সাভারে পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যা চৌফলদন্ডীকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নাগরিক ঐক্য পরিষদ গঠন সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান :ছিনতাইয়ের অভিযোগে সম্রাট নামের যুবক আটক শহরে ডিবির অভিযান : ৪ ছিনতাইকারী আটক লামায় অবৈধ বালু উত্তোলন, শ্যালো মেশিন ও পাইপ জব্দ দুঃশাসনের ক্ষত মুছে বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ছে বিএনপি: লোহাগাড়ায় লায়ন হেলাল

টেকপাড়ায় বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাত, হাসপাতালে প্রাণ গেল নারীর : আটক ৩

  • সিয়াম সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 5855

Oplus_131072

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে সানজিদা আক্তার (রেশমি) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। বকেয়া খাতায় কেনাকাটার সুবাদে ওই দোকানের ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।

এই বিষয়টি জানতে পেরে পেশকারপাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও পাঁচ নারী সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এ সময় সানজিদা ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাসায় কাজ করা নারী আনোয়ারা বেগম জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার দাবি, সানজিদার সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর পরবর্তীতে পেশকারপাড়ার পারভিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর প্ররোচনায় কয়েকজন নারী এসে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহতের ছেলে সাব্বির কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় তার মা এবং সে বাসায় ছিলেন। এছাড়া দুইজন পুরুষও আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শফিউল আলম সওদাগরকে সে চিনতে পারলেও অপরজনকে চিনতে পারেনি। এক পর্যায়ে পেশকারপাড়ার পাঁচ নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিনকে আটক করে। এসময় ইয়াসমিনকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন এবং আহত সানজিদাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সানজিদার বাড়ি সাতকানিয়ার বারদোনা এলাকায় হওয়ায় ঘটনাস্থলে তার নিকট আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ ছিলেন না। তাই তারাই হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তারা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

হাসপাতালে নিহতের সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না

টেকপাড়ায় বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাত, হাসপাতালে প্রাণ গেল নারীর : আটক ৩

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে সানজিদা আক্তার (রেশমি) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। বকেয়া খাতায় কেনাকাটার সুবাদে ওই দোকানের ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।

এই বিষয়টি জানতে পেরে পেশকারপাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও পাঁচ নারী সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এ সময় সানজিদা ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাসায় কাজ করা নারী আনোয়ারা বেগম জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার দাবি, সানজিদার সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর পরবর্তীতে পেশকারপাড়ার পারভিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর প্ররোচনায় কয়েকজন নারী এসে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহতের ছেলে সাব্বির কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় তার মা এবং সে বাসায় ছিলেন। এছাড়া দুইজন পুরুষও আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শফিউল আলম সওদাগরকে সে চিনতে পারলেও অপরজনকে চিনতে পারেনি। এক পর্যায়ে পেশকারপাড়ার পাঁচ নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিনকে আটক করে। এসময় ইয়াসমিনকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন এবং আহত সানজিদাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সানজিদার বাড়ি সাতকানিয়ার বারদোনা এলাকায় হওয়ায় ঘটনাস্থলে তার নিকট আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ ছিলেন না। তাই তারাই হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তারা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

হাসপাতালে নিহতের সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।