দেশের তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানও রদবদলের ধারাবাহিকতায় বদলি হতে যাচ্ছেন এবং শীঘ্রই সেই প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে।
পাবনা ও হবিগঞ্জে দায়িত্বপালনের পর ২৭ তম বিসিএস (পুলিশ) এর এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কক্সবাজারে দায়িত্ব নেন।
প্রায় ৯ মাসের দায়িত্বপালনকালে
আলোচনা-সমালোচনা-সাফল্য সবকিছুরই মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে অকথ্য গালিগালাজ করে অন্তর দে বিশাল নামে কক্সবাজারের স্থানীয় এক সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি দেওয়া হয়।
অন্তরের দাবি, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার প্রায় পাঁচ মিনিট পরই অন্য একটি নম্বর থেকে তাকে হুমকিমূলক ফোন করা হয়। পরে ওই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্তর জানান, নিজের নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়টি জানাতে তিনি এসপির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এসপি তাকে হুমকি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি পাঠাতে বলেন এবং বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনে এসপিকে শোনা যায়, ‘কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হলে মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিরা সতর্ক হয়ে যেতে পারেন। আপনার কিছু হলে আমি দেখব, জিডি করার দরকার নাই।’
অন্তরের কাছে থাকা অন্যান্য নথি, ফোন নম্বর এবং ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তিনি ফোনদাতাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন।
অন্তরের ভাষ্যমতে, প্রথম যে নম্বর থেকে তাকে ফোন করে সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল সেটি একটি নারীর নামে হবিগঞ্জে নিবন্ধিত এবং এসপিও একসময় হবিগঞ্জে কর্মরত ছিলেন।
এঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ১০ আগস্ট সুষ্ঠু তদন্ত ও হুমকিদাতাকে শনাক্তের দাবিতে কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সহ বক্তারা জানান,
‘কোনো সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশের আপত্তি থাকলে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘
এছাড়াও সমাবেশে সংশয় প্রকাশ করে বলা হয়, ‘সাংবাদিককে ভয় দেখানো, মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া বা সংবাদ সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলে।’
শুধু অতি সাম্প্রতিক এই ঘটনায় নয়, এর আগে আলোচিত খোরশেদ হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী তারিনকে মামলার স্বাক্ষী বানানোর ক্ষেত্রেও এসপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ সুপারের সাড়া পাওয়া যায়নি।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 




















