ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন  সড়ক ভাড়া দিলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু অবশেষে গ্রেফতার হলো নিহত তাজমিনের প্রেমিক রাজু উখিয়ার কোটবাজার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জসিম গ্রেপ্তার আরব আমিরাত থেকে ৯৬ লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে এলো চকরিয়ার নোমান, খুঁজছে পুলিশ কক্সবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘সম্পর্ক নেই’ রাজুর পেকুয়ায় চিংড়িঘেরে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ৩ ৫০ হাজার টাকার জন্য ৪ বছরের ওমাইরকে অপহরণ করে হত্যা এমপি কাজলের সহধর্মিণী শিরিন রহমানের সুস্থতা কামনায় রামুতে বিএনপির দোয়া মাহফিল

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 344

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।