ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন আইনজীবী ইয়াছির আরাফাত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে সাগরের মাছ পাচার তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ? ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই চার্জশিট: আইনমন্ত্রী স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলার প্রথম ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সীমান্তে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ, পিছু হটতে বাধ্য হলো ভারতীয় বাহিনী ফোর্টিফাই রাইটসের বিবৃতি – আরসা প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দাবি কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত কুকুরের নৈপুণ্যে টায়ারের ভেতর মিলল ইয়াবা

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 146

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।