ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি প্রধানমন্ত্রীকে বরনে প্রস্তুত পেকুয়া কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 150

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।