ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় টেকনাফে যুবক গুলিবিদ্ধ টেকনাফে কিশোর অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি কক্সবাজার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হ্নীলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর/ অবশেষে জেটি ও টার্মিনালসহ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সৈকত খেলাঘর আসর নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিললো গর্তে কক্সবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল:গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে জনগণ নোট অব ডিসেন্ট দেবে খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝিনুকমালার নানান আয়োজন  পেকুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 144

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।