ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন জাবির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আক্তার চৌধুরীকে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সমাজ কমিটির সংবর্ধনা নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী  গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর : ইসি মাছউদ এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডাম্পার চালকের মৃত্যু লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ে:ভাইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বন্যাদুর্গত কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় তিন মাসের জন্য ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 307

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।