ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 334

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।