কক্সবাজারে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাচার ও চোরাচালানের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার কক্সবাজারের মোটেল রোডে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নিয়ে এক পরামর্শ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। এই সভার আয়োজন করে ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ‘অ্যাসিস্ট্যান্স টু ভালনারেবল মাইগ্র্যান্টস অ্যান্ড কাউন্টার ট্রাফিকিং’ প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “কক্সবাজারের মতো সীমান্তবর্তী ও বৃহৎ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাসকারী এলাকায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্যাম্প প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয় কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় তা নিয়েও কথা বলেন।
এর আগে ইপসা’র উপপরিচালক ও কক্সবাজারের রিজিওনাল হেড মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। তিনি বলেন, “কক্সবাজারে মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় করা এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মানব পাচার প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে।” এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইওএমের কাউন্টার ট্রাফিকিং ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সারা সাদিয়া ইসরাত। ইপসা’র সহকারী পরিচালক যীশু বড়ুয়া পুরো প্রকল্পের দৃশ্যপট বড় পর্দায় উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “মানব পাচারের অন্ধকার পথ রোধ করতে শুধু আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সমন্বিত প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং সুরক্ষার একটি শক্ত দেয়াল।”
এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান মানব পাচারের নতুন আইনের বিদ্যমান আইনগত কাঠামো, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য, ভুক্তভোগীদের অধিকার এবং প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় বিশেষভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাচার ও চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) এবং শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে পাচারকারীদের প্রলোভন, প্রতারণা ও নানা ধরনের শোষণ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের নতুন আইনেও মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” সভায় বিভিন্ন ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়, আইওএম এবং ইপসা’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: 
















