ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“অদম্য নারী” পুরস্কার পেলেন কক্সবাজারের ১১ নারী খুনিয়া পালংয়ে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হোটেল কক্ষে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাত, আহত ৫ নারী বাসযাত্রীর ব্যাগে মিললো ২.৭ কেজি গাঁজা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা বিতরণ, তদন্তের মুখে এনজিও সওয়াব ভয়াল ২৯ এপ্রিল : এখনো অরক্ষিত বিস্তীর্ণ উপকূল পাঁচ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি

খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

পবিত্র রমজান মাসেই আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যায়। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুর আপনার শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পুষ্টির পাওয়ার হাউস
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭–৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি আমাদের দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার ১৫ শতাংশ, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। এ ছাড়া খেজুরে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।

খেজুরের বিশেষ গুণ

হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা : খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো এইচডিএল বৃদ্ধি করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ধমনির নমনীয়তা বজায় থাকে।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : খেজুরে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’–এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে : খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে খেজুর বয়স্ক ও নারীদের হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।
প্রজনন ক্ষমতা : খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে ও প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। আয়রনের উপস্থিতির কারণে এটি চুল পড়া রোধ করে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতা কম হয়।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের উত্স: অন্যান্য শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেশি। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’জনিত ক্ষতি থেকে বাঁচায়, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: স্টার নিউজ
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসেই আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যায়। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুর আপনার শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পুষ্টির পাওয়ার হাউস
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭–৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি আমাদের দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার ১৫ শতাংশ, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। এ ছাড়া খেজুরে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।

খেজুরের বিশেষ গুণ

হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা : খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো এইচডিএল বৃদ্ধি করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ধমনির নমনীয়তা বজায় থাকে।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : খেজুরে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’–এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে : খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে খেজুর বয়স্ক ও নারীদের হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।
প্রজনন ক্ষমতা : খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে ও প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। আয়রনের উপস্থিতির কারণে এটি চুল পড়া রোধ করে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতা কম হয়।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের উত্স: অন্যান্য শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেশি। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’জনিত ক্ষতি থেকে বাঁচায়, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: স্টার নিউজ