ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লাবনী পয়েন্টে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এআরও নেতা হালিম নিহত উখিয়ায় টমটম থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই, গা-ঢাকা দুই কারবারির রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৭ কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ ১২ পলাতক আসামি গ্রেফতার টিটিপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রোহিঙ্গা তরুণ গ্রেপ্তার: পুলিশ গাছখেকোদের বাঁচাতে মরিয়া বিট কর্মকর্তা মান্নান ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে উখিয়া সীমান্তে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা কক্সবাজার ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে বরণে নেতাকর্মীদের ঢল সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

পবিত্র রমজান মাসেই আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যায়। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুর আপনার শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পুষ্টির পাওয়ার হাউস
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭–৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি আমাদের দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার ১৫ শতাংশ, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। এ ছাড়া খেজুরে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।

খেজুরের বিশেষ গুণ

হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা : খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো এইচডিএল বৃদ্ধি করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ধমনির নমনীয়তা বজায় থাকে।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : খেজুরে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’–এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে : খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে খেজুর বয়স্ক ও নারীদের হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।
প্রজনন ক্ষমতা : খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে ও প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। আয়রনের উপস্থিতির কারণে এটি চুল পড়া রোধ করে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতা কম হয়।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের উত্স: অন্যান্য শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেশি। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’জনিত ক্ষতি থেকে বাঁচায়, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: স্টার নিউজ
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লাবনী পয়েন্টে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসেই আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যায়। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুর আপনার শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পুষ্টির পাওয়ার হাউস
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭–৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি আমাদের দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার ১৫ শতাংশ, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। এ ছাড়া খেজুরে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।

খেজুরের বিশেষ গুণ

হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা : খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো এইচডিএল বৃদ্ধি করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ধমনির নমনীয়তা বজায় থাকে।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : খেজুরে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’–এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে : খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে খেজুর বয়স্ক ও নারীদের হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।
প্রজনন ক্ষমতা : খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে ও প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। আয়রনের উপস্থিতির কারণে এটি চুল পড়া রোধ করে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতা কম হয়।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের উত্স: অন্যান্য শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেশি। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’জনিত ক্ষতি থেকে বাঁচায়, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: স্টার নিউজ