ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক শারিকা নুর তাহেরা তুবা কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও সদস্যের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষে কৃষকের বীজ! লোহাগাড়ায় ইউএনওর অভিযানে উদ্ধার ১৩ বস্তা টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার নি’ষি’দ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা বদিউল আলম আমীর কারাগারে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ চলাকালে দুর্ঘটনা: শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বেড়ে ৮ কক্সবাজারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনা মিয়া জামিনে মুক্ত আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত যাচ্ছেন: এনডিটিভি বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল, আলোচনায় তিন পদ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তবে কি সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন? টেকনাফে একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না

শিশুর মেজাজ খিটখিটে? পড়া কিংবা খেলায়ও ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে না? এই সমস্যা শুধু আপনার একার সন্তানের নয়, বরং বেশিরভাগ মা-বাবাই তাদের শিশু সন্তানকে এমন সমস্যায় ভুগতে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর আচরণের সঙ্গে পুষ্টির একটি যোগসূত্র রয়েছে। শিশু বিকাশ এবং পুষ্টি বিষয়ক আধুনিক গবেষণা ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র গভীরভাবে সংযুক্ত। সুখবর হলো, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ধীরে ধীরে শিশুর আচরণকে উন্নত করতে পারে।

প্রতিটি খাবারে প্রোটিন যোগ করুন

মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মানসিক ভারসাম্যের জন্য প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শিশুর খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকলে দুর্বলতা, মনোযোগ দিতে সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এটি শেখার ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন শিশুকে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে মনোযোগ উন্নত করতে, সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। দুধ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং বীজের মতো দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে সহজেই শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন যোগ করতে পারেন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখুন

অন্ত্রের স্বাস্থ্য শিশুর মেজাজ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে যে সুস্থ পরিপাকতন্ত্র মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে শিশুরা খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য কোনো বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন হয় না। দই, ঘোল, দোসার মতো গাঁজানো খাবার, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার, প্রিবায়োটিক এবং পর্যাপ্ত পানিপান সুস্থ অন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত পানিপান

মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করার জন্য মূলত পর্যাপ্ত পানিপানের ওপর নির্ভর করে। শিশুরা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তারা সহজে তৃষ্ণার সংকেত চিনতে পারে না। বাবা-মায়েরা সন্তানের তৃষ্ণার লক্ষণগুলো লক্ষ্য করতে পারেন, যেমন- ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, বাথরুমে কম যাওয়া, মিষ্টি পানীয়ের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। বাবা-মায়েরা চাপ সৃষ্টি না করে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সেইসঙ্গে তাদের খাবারে তরমুজ, কমলা, শসা ও স্যুপের মতো জলীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত করুন।

খাবারের সময়সূচী

খাবারের নিয়মিত সময়সূচীও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা শিশুর মেজাজ, মনোযোগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এটি তাদের মানসিক অবস্থা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশু একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পেলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা উন্নত হয়, হজমশক্তি ও শক্তির মাত্রা বাড়ে। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারের সময় ঠিক রাখতে চেষ্টা করুন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক শারিকা নুর তাহেরা তুবা

শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না

আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

শিশুর মেজাজ খিটখিটে? পড়া কিংবা খেলায়ও ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে না? এই সমস্যা শুধু আপনার একার সন্তানের নয়, বরং বেশিরভাগ মা-বাবাই তাদের শিশু সন্তানকে এমন সমস্যায় ভুগতে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর আচরণের সঙ্গে পুষ্টির একটি যোগসূত্র রয়েছে। শিশু বিকাশ এবং পুষ্টি বিষয়ক আধুনিক গবেষণা ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র গভীরভাবে সংযুক্ত। সুখবর হলো, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ধীরে ধীরে শিশুর আচরণকে উন্নত করতে পারে।

প্রতিটি খাবারে প্রোটিন যোগ করুন

মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মানসিক ভারসাম্যের জন্য প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শিশুর খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকলে দুর্বলতা, মনোযোগ দিতে সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এটি শেখার ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন শিশুকে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে মনোযোগ উন্নত করতে, সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। দুধ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং বীজের মতো দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে সহজেই শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন যোগ করতে পারেন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখুন

অন্ত্রের স্বাস্থ্য শিশুর মেজাজ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে যে সুস্থ পরিপাকতন্ত্র মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে শিশুরা খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য কোনো বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন হয় না। দই, ঘোল, দোসার মতো গাঁজানো খাবার, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার, প্রিবায়োটিক এবং পর্যাপ্ত পানিপান সুস্থ অন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত পানিপান

মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করার জন্য মূলত পর্যাপ্ত পানিপানের ওপর নির্ভর করে। শিশুরা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তারা সহজে তৃষ্ণার সংকেত চিনতে পারে না। বাবা-মায়েরা সন্তানের তৃষ্ণার লক্ষণগুলো লক্ষ্য করতে পারেন, যেমন- ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, বাথরুমে কম যাওয়া, মিষ্টি পানীয়ের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। বাবা-মায়েরা চাপ সৃষ্টি না করে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সেইসঙ্গে তাদের খাবারে তরমুজ, কমলা, শসা ও স্যুপের মতো জলীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত করুন।

খাবারের সময়সূচী

খাবারের নিয়মিত সময়সূচীও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা শিশুর মেজাজ, মনোযোগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এটি তাদের মানসিক অবস্থা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশু একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পেলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা উন্নত হয়, হজমশক্তি ও শক্তির মাত্রা বাড়ে। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারের সময় ঠিক রাখতে চেষ্টা করুন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট