ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না

শিশুর মেজাজ খিটখিটে? পড়া কিংবা খেলায়ও ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে না? এই সমস্যা শুধু আপনার একার সন্তানের নয়, বরং বেশিরভাগ মা-বাবাই তাদের শিশু সন্তানকে এমন সমস্যায় ভুগতে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর আচরণের সঙ্গে পুষ্টির একটি যোগসূত্র রয়েছে। শিশু বিকাশ এবং পুষ্টি বিষয়ক আধুনিক গবেষণা ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র গভীরভাবে সংযুক্ত। সুখবর হলো, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ধীরে ধীরে শিশুর আচরণকে উন্নত করতে পারে।

প্রতিটি খাবারে প্রোটিন যোগ করুন

মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মানসিক ভারসাম্যের জন্য প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শিশুর খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকলে দুর্বলতা, মনোযোগ দিতে সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এটি শেখার ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন শিশুকে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে মনোযোগ উন্নত করতে, সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। দুধ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং বীজের মতো দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে সহজেই শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন যোগ করতে পারেন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখুন

অন্ত্রের স্বাস্থ্য শিশুর মেজাজ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে যে সুস্থ পরিপাকতন্ত্র মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে শিশুরা খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য কোনো বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন হয় না। দই, ঘোল, দোসার মতো গাঁজানো খাবার, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার, প্রিবায়োটিক এবং পর্যাপ্ত পানিপান সুস্থ অন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত পানিপান

মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করার জন্য মূলত পর্যাপ্ত পানিপানের ওপর নির্ভর করে। শিশুরা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তারা সহজে তৃষ্ণার সংকেত চিনতে পারে না। বাবা-মায়েরা সন্তানের তৃষ্ণার লক্ষণগুলো লক্ষ্য করতে পারেন, যেমন- ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, বাথরুমে কম যাওয়া, মিষ্টি পানীয়ের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। বাবা-মায়েরা চাপ সৃষ্টি না করে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সেইসঙ্গে তাদের খাবারে তরমুজ, কমলা, শসা ও স্যুপের মতো জলীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত করুন।

খাবারের সময়সূচী

খাবারের নিয়মিত সময়সূচীও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা শিশুর মেজাজ, মনোযোগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এটি তাদের মানসিক অবস্থা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশু একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পেলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা উন্নত হয়, হজমশক্তি ও শক্তির মাত্রা বাড়ে। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারের সময় ঠিক রাখতে চেষ্টা করুন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না

আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

শিশুর মেজাজ খিটখিটে? পড়া কিংবা খেলায়ও ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে না? এই সমস্যা শুধু আপনার একার সন্তানের নয়, বরং বেশিরভাগ মা-বাবাই তাদের শিশু সন্তানকে এমন সমস্যায় ভুগতে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর আচরণের সঙ্গে পুষ্টির একটি যোগসূত্র রয়েছে। শিশু বিকাশ এবং পুষ্টি বিষয়ক আধুনিক গবেষণা ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র গভীরভাবে সংযুক্ত। সুখবর হলো, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ধীরে ধীরে শিশুর আচরণকে উন্নত করতে পারে।

প্রতিটি খাবারে প্রোটিন যোগ করুন

মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মানসিক ভারসাম্যের জন্য প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শিশুর খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকলে দুর্বলতা, মনোযোগ দিতে সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এটি শেখার ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন শিশুকে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে মনোযোগ উন্নত করতে, সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। দুধ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং বীজের মতো দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে সহজেই শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন যোগ করতে পারেন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখুন

অন্ত্রের স্বাস্থ্য শিশুর মেজাজ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে যে সুস্থ পরিপাকতন্ত্র মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে শিশুরা খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য কোনো বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন হয় না। দই, ঘোল, দোসার মতো গাঁজানো খাবার, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার, প্রিবায়োটিক এবং পর্যাপ্ত পানিপান সুস্থ অন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত পানিপান

মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করার জন্য মূলত পর্যাপ্ত পানিপানের ওপর নির্ভর করে। শিশুরা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তারা সহজে তৃষ্ণার সংকেত চিনতে পারে না। বাবা-মায়েরা সন্তানের তৃষ্ণার লক্ষণগুলো লক্ষ্য করতে পারেন, যেমন- ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, বাথরুমে কম যাওয়া, মিষ্টি পানীয়ের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। বাবা-মায়েরা চাপ সৃষ্টি না করে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সেইসঙ্গে তাদের খাবারে তরমুজ, কমলা, শসা ও স্যুপের মতো জলীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত করুন।

খাবারের সময়সূচী

খাবারের নিয়মিত সময়সূচীও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা শিশুর মেজাজ, মনোযোগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এটি তাদের মানসিক অবস্থা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। শিশু একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পেলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা উন্নত হয়, হজমশক্তি ও শক্তির মাত্রা বাড়ে। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারের সময় ঠিক রাখতে চেষ্টা করুন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট