ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার

তবে কি সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন?

বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী মহাসচিব পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন। এমন বাস্তবতায় কে হবেন পরবর্তী মহাসচিব সেই প্রশ্ন চারিদিকে।

বিএনপির মহাসচিব কে হবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আলোচনায় এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর কথা সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদকে এ পদের জন্যে যোগ্য মনে করছেন অনেকেই। ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথমবারের মতো চকরিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছর বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালিন সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে জনপ্রশাসনের সহকারি কমিশনার তথা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকুরী জিবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ কে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি হন এবং পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সবশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সবশেষ ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে সালাহউদ্দিন আহমদ কে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি যতোবার সরকার গঠন করেছে ততোবারই স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী করা হয়েছে দলের মহাসচিব কে। বলা যায় এটা বিএনপির প্রথাগত রাজনৈতিক কৌশল। যেহেতু স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদকে দেয়া হয়েছে তাই ধরে নেয়া হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। গুম হওয়া, প্রায় ১০ বছরের নির্বাসিত জিবন,দলের প্রতি অগাধ আনুগত্য ও ত্যাগ রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের।
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব হতে যে দক্ষতা ও যোগ্যতা দরকার তার সবই আছে এবং বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম এমন ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্য কাউকে আপাততঃ অগ্রগন্য বলে মনে করছেনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের মহাসচিব পদে অত্যন্ত ত্যাগী রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন এমনটাই অনেকে মনে করেন এবং দলীয় গঠনতন্ত্রও তাই বলে। তবে দলের চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের চুড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

তাই রিজভী আহমদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল অধিবেশন করে মহাসচিব পদে নির্বাচনও করতে পারে, ঢাকায় এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

তবে মহাসচিব হোক বা না হোক সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির সেকেন্ড ম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখছেন বলে দাবী করে সূত্রটি বলছে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকাংখার উপর নির্ভর করবে কে হবেন মহাসচিব। আর তা জানা যাবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০

তবে কি সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন?

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী মহাসচিব পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন। এমন বাস্তবতায় কে হবেন পরবর্তী মহাসচিব সেই প্রশ্ন চারিদিকে।

বিএনপির মহাসচিব কে হবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আলোচনায় এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর কথা সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদকে এ পদের জন্যে যোগ্য মনে করছেন অনেকেই। ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথমবারের মতো চকরিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছর বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালিন সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে জনপ্রশাসনের সহকারি কমিশনার তথা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকুরী জিবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ কে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি হন এবং পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সবশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সবশেষ ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে সালাহউদ্দিন আহমদ কে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি যতোবার সরকার গঠন করেছে ততোবারই স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী করা হয়েছে দলের মহাসচিব কে। বলা যায় এটা বিএনপির প্রথাগত রাজনৈতিক কৌশল। যেহেতু স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদকে দেয়া হয়েছে তাই ধরে নেয়া হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। গুম হওয়া, প্রায় ১০ বছরের নির্বাসিত জিবন,দলের প্রতি অগাধ আনুগত্য ও ত্যাগ রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের।
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব হতে যে দক্ষতা ও যোগ্যতা দরকার তার সবই আছে এবং বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম এমন ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্য কাউকে আপাততঃ অগ্রগন্য বলে মনে করছেনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের মহাসচিব পদে অত্যন্ত ত্যাগী রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন এমনটাই অনেকে মনে করেন এবং দলীয় গঠনতন্ত্রও তাই বলে। তবে দলের চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের চুড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

তাই রিজভী আহমদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল অধিবেশন করে মহাসচিব পদে নির্বাচনও করতে পারে, ঢাকায় এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

তবে মহাসচিব হোক বা না হোক সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির সেকেন্ড ম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখছেন বলে দাবী করে সূত্রটি বলছে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকাংখার উপর নির্ভর করবে কে হবেন মহাসচিব। আর তা জানা যাবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর।