ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়া সড়কে প্রাণ হারালেন দুই শ্রমিক সৈকতে গান, জাদু ও কমেডিতে অনলাইন সহিংসতাবিরোধী প্রচারণা মেরিনড্রাইভে প্রাইভেট বিচ নাম দিয়ে সৈকত দখলে বেলাভূমি রিসোর্ট! পেকুয়ায় ক্যামব্রিয়ান স্কুলে মুক্ত আলোচনা সভা : মানসম্মত শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ ‎কুতুবদিয়ায় জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়ন শাহাব উদ্দিনকে সংবর্ধনা কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ সহায়তা, পাশে থাকার আশ্বাস এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর গেল ১ যুগে সড়কে প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের : দূর্ঘটনা ঘটেছে ৭২ হাজার সাগরে নিখোঁজ নিবিড়ের মরদেহ ভেসে এলো : এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৫ ​‘বজ্রপাত’ বলতে গিয়ে ‘বীর্যপাত’! বললেন সাবরাংয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মান্নান চট্টগ্রামে চালককে অচেতন করে চিনি ছিনতাই, লামায় উদ্ধার ১৪৪ বস্তা জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করার দাবি তরুণদের দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’ বলে ভাইরাল ইউএনও অগ্নিকাণ্ডের পর ইকো রিসোর্ট এড়িয়ে চলছেন পর্যটকরা প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, পরে বুঝলাম রক্ষা পেয়েছি: পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইশরাক জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

  • তৌফিক লিপু
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 215

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে এক ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি সেই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের কাটেনি হতাশা।

​সেদিন এক বৌদ্ধ যুবক, উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ধ্বংস করা হয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কিছু বসতঘর। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শন।

​কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, চোখের সামনে শতবছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা এখনও তাদের স্মৃতিতে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর অতি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।

​কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে অনেক নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। ঘটনার সঠিক সত্য তুলে আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি পুরো মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

​মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে না আসার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

​উল্লেখ্য, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি মামলা বাদীর আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলিশ ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে এসব মামলার আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছে।

​এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রামুর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়া সড়কে প্রাণ হারালেন দুই শ্রমিক

রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

আপডেট সময় : ০৯:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে এক ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি সেই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের কাটেনি হতাশা।

​সেদিন এক বৌদ্ধ যুবক, উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ধ্বংস করা হয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কিছু বসতঘর। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শন।

​কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, চোখের সামনে শতবছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা এখনও তাদের স্মৃতিতে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর অতি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।

​কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে অনেক নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। ঘটনার সঠিক সত্য তুলে আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি পুরো মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

​মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে না আসার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

​উল্লেখ্য, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি মামলা বাদীর আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলিশ ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে এসব মামলার আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছে।

​এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রামুর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।