বিশেষ করে রান্নাঘরের অবস্থান দেখছেন বেশির ভাগ ভ্রমণকারী। এরই মধ্যে ইকো রিসোর্টের বুকিং অনেকেই বাতিলও করে দিয়েছেন। এমনকি নিরাপদ ভ্রমণের জন্য রিসোর্ট বুকিংয়ের আগে ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন রয়েছে কি না তা যাচাই করে নিচ্ছেন অনেক পর্যটক। ওদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতাও শুরু হয়েছে।
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে। ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা রাহুল-শম্পা নামের দম্পতি তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমরা মেরিন ড্রাইভ ঘুরে দেখেছি, এগুলো ইকো রিসোর্টের নামে পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু নয়। বাইরে থেকে দেখতে ইকোর স্টাইল হলেও ভেতরে সেই পরিবেশ নেই। তদুপরি অগ্নিনির্বাপনেরও নেই ন্যূনতম কোনো কিছুই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেরিন ড্রাইভের যত্রতত্র গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্টগুলোর আকর্ষণ হারিয়ে ভ্রমণকারীরা নিরাপদ পরিবেশের রিসোর্টের খোঁজে ছুটছেন। আবার অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, সেদিনের ভয়াল দুর্ঘটনা নিয়ে ভ্রমণকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ফিরেছে অধিকতর সচেতনতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহর সংলগ্ন সাগরপারের হোটেল-মোটেল জোন এলাকাটির ১৩০ একরের বরাদ্দ করা প্লটগুলোতে গত দেড় দশকে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত হোটেলের ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবন নির্মাণে সরকারের দালান নির্মাণ আইনেরও তোয়াক্কা করা হয়নি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তথ্যমতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে মেরিন ড্রাইভেও দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টসহ দোকানপাটের স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
বাস্তবে এই সংখ্যা কমপক্ষে তিন শরও বেশি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগই রিসোর্টের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।
মেরিন ড্রাইভের সোনারপাড়া, পেঁচারদ্বীপ হিমছড়ি এলাকায় ঝাউবাগান ও প্যারাবনসহ অনেকগুলো অবৈধ রিসোর্ট গড়ে তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নানা কাঠ, বাঁশ ও ছন বা টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মিত এসব রিসোর্ট নিয়ে অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ভ্রমণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বাস্তবে নিরাপত্তার বালাই নেই এসবগুলোতে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে অবস্থান করা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকি করতে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভের তারকা মানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যগুলোর বৈধ অনুমোদন নেই। এরই মধ্যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আরো স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকেও নোটিশ দেওয়া হবে।’
এদিকে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহতের পর গত মঙ্গলবার থেকে ফায়ার সার্ভিসেরও ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফায়ার লাইসেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এক দিনেই মেরিন ড্রাইভে অর্ধশতাধিক রিসোর্টসহ নানা স্থাপনায় ফায়ার লাইসেন্সের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কক্সবাজারের সহস্রাধিক রিসোর্টের মধ্যে মাত্র ২৩টি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৩টি ফায়ার লাইসেন্সের আবেদন করেছে।
টিটিএন ডেস্ক: 





















