ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গণ ডাকাতি’র নেতৃত্বে ছালেক,গড়ে তুলেছে হক বাহিনী!   টেকনাফে বসতঘর থেকে উদ্ধার কিং কোবরা, জাহাজপুরায় বনে অবমুক্ত জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দোকান কর্মচারীকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ হিমছড়িতে গোসলে নেমে সানি, আকাশ ও হারুনের মৃত্যু রামুর বাঁকখালী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের,বর্ণের মানুষের উন্নয়ন করা হবে- কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে মীর হেলাল হিমছড়িতে সৈকতে গোসলে নেমে ২ পর্যটক নিখোঁজ: ৩ জনের মৃত্যু টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন সমুদ্রে জনসমুদ্র বিসর্জনে যা অর্জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্গাপূজা: বিবর্ণ জীবনে রঙিন উৎসব দুর্গাপূজা ও টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, তিন স্তরের নিরাপত্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের ‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গণ ডাকাতি’র নেতৃত্বে ছালেক,গড়ে তুলেছে হক বাহিনী!  

কক্সবাজারের ঈদগাঁও- ঈদগড় সড়কে সম্প্রতি গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠিত ঘটনায় এ পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে  দুইজনকে। তৎমধ্যে একজন নারীও রয়েছে।

উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত স্বর্ণ, খেলনা পিস্তল, ব্যাগ, মোবাইল,নগদ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযানে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গণডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত  মালামাল গুলো নুরুল হক নুর নামের এক যুবদল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।নুরুল হক নুর ঈদগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর শিয়া পাড়া এলাকা শামশুল আলম ভিলেজারের ছেলে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে যুবদলের এ নেতা।

অনুসন্ধান ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ঈদগাঁও ৭নং ওয়ার্ডের শিয়া পাড়া এলাকার মৃত গফুর আলমের পুত্র আন্তঃডাকাত দলের সদস্য  সমাজচ্যুত ছালেক প্রকাশ ছালিক্কার নেতৃত্বে একটি ডাকাত গ্রুপ গড়ে তুলেছে শিয়া পাড়া কেন্দ্রীক, গ্রুপটির নাম দেয়া হয়েছে ‘হক’ গ্রুপ।স্থানীয়রা জানিয়েছে, যুবদল নেতা নুরুল হক নুরের নাম অনুসারে এ ছিনতাইকারী, ডাকাত গ্রুপটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নুরুল হক নুর তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় এবং প্রশাসনিক ঝামেলা এড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে। অন্যদিকে ছালেকের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রয়েছে শীর্ষ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বহু ডাকাতি মামলার আসামী ছাবের আহমেদ।ছাবের আহমেদ প্রকাশ ছাবিজ্জা ডাকাত নুরুল হক নুরের আপন খালাতো ভাই বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সমাজচ্যুত হয়ে ডাকাত ছালেক দীর্ঘ বছর আগে চকরিয়া বদরখালী এলাকায় চলে যায়, সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে। সেখান থেকে এসে ঈদগাঁও,ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, অপহরণ, মুক্তিপণের ঘটনা ঘটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ বছর পূর্বে ডাকাতি করতে এসে অস্ত্রসহ কালির ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের হাতে ধৃত হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে এসে ফের ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, মুক্তিপণে জড়িয়ে পড়ছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ছালেক ডাকাত গ্রেফতার হওয়ার পর তার সিন্ডিকেট সদস্যদের পরিচয় পুলিশের কাছে স্বীকার করে। সে থেকে  সিন্ডিকেট সদস্যরা ছালেক ডাকাতকে এড়িয়ে চলছে এবং দেখা মাত্র হত্যার হুমকিও পেয়েছে ছালেক। এদিকে হত্যার হুমকি, সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পূর্বের জন্মস্থানে গড়ে তুলেছে হক বাহিনী নামের একটি ডাকাত দলের সক্রিয় বাহিনী। তারা প্রতি নিয়ত ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ বানিজ্য চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, সেবন, ছিনতাই, অস্ত্র ভাড়া দেয়া, চুরি, ভাড়াতে কিলার হিসেবে নানান অপরাধ করে আসছে।ইতিপূর্বে এলাকায় কয়েকটি দোকান ডাকাতি করে ধৃত হয়ে কেউ কেউ কারাভোগ করে জামিনে এসে পূনরায় অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছালেক, সাবের,নুরুল হকের ডাকাত চক্রটি এতই বেপরোয়া কেউ মুখ খোলার সাহস করে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর চলে নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন। ফলে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেয়ে একবুক হতাশা নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছে স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, এ ডাকাত সিন্ডিকেটে সরাসরি জড়িত রয়েছে নুরুল হকের খালাতো ভাই আইয়ুব আলী প্রকাশ বতল, ছালেকর আপন ছোট ভাই বাবু, একই এলাকার হাবিবের ছেলে রুবেল, ফারুকসহ বেশ কয়েকজন। স্থানীয় সচেতন মহল, এসব ডাকাতদের দ্রুত আটক পূর্বক আইনের আওতায় আনতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদার জানান,গণডাকাতির ঘটনায় ইতিপূর্বে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। কারা কারা ঘটনায় জড়িত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান চলমান রেখেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গণ ডাকাতি’র নেতৃত্বে ছালেক,গড়ে তুলেছে হক বাহিনী!  

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও- ঈদগড় সড়কে সম্প্রতি গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠিত ঘটনায় এ পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে  দুইজনকে। তৎমধ্যে একজন নারীও রয়েছে।

উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত স্বর্ণ, খেলনা পিস্তল, ব্যাগ, মোবাইল,নগদ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযানে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গণডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত  মালামাল গুলো নুরুল হক নুর নামের এক যুবদল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।নুরুল হক নুর ঈদগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর শিয়া পাড়া এলাকা শামশুল আলম ভিলেজারের ছেলে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে যুবদলের এ নেতা।

অনুসন্ধান ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ঈদগাঁও ৭নং ওয়ার্ডের শিয়া পাড়া এলাকার মৃত গফুর আলমের পুত্র আন্তঃডাকাত দলের সদস্য  সমাজচ্যুত ছালেক প্রকাশ ছালিক্কার নেতৃত্বে একটি ডাকাত গ্রুপ গড়ে তুলেছে শিয়া পাড়া কেন্দ্রীক, গ্রুপটির নাম দেয়া হয়েছে ‘হক’ গ্রুপ।স্থানীয়রা জানিয়েছে, যুবদল নেতা নুরুল হক নুরের নাম অনুসারে এ ছিনতাইকারী, ডাকাত গ্রুপটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নুরুল হক নুর তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় এবং প্রশাসনিক ঝামেলা এড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে। অন্যদিকে ছালেকের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রয়েছে শীর্ষ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বহু ডাকাতি মামলার আসামী ছাবের আহমেদ।ছাবের আহমেদ প্রকাশ ছাবিজ্জা ডাকাত নুরুল হক নুরের আপন খালাতো ভাই বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সমাজচ্যুত হয়ে ডাকাত ছালেক দীর্ঘ বছর আগে চকরিয়া বদরখালী এলাকায় চলে যায়, সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে। সেখান থেকে এসে ঈদগাঁও,ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, অপহরণ, মুক্তিপণের ঘটনা ঘটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ বছর পূর্বে ডাকাতি করতে এসে অস্ত্রসহ কালির ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের হাতে ধৃত হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে এসে ফের ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, মুক্তিপণে জড়িয়ে পড়ছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ছালেক ডাকাত গ্রেফতার হওয়ার পর তার সিন্ডিকেট সদস্যদের পরিচয় পুলিশের কাছে স্বীকার করে। সে থেকে  সিন্ডিকেট সদস্যরা ছালেক ডাকাতকে এড়িয়ে চলছে এবং দেখা মাত্র হত্যার হুমকিও পেয়েছে ছালেক। এদিকে হত্যার হুমকি, সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পূর্বের জন্মস্থানে গড়ে তুলেছে হক বাহিনী নামের একটি ডাকাত দলের সক্রিয় বাহিনী। তারা প্রতি নিয়ত ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ বানিজ্য চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, সেবন, ছিনতাই, অস্ত্র ভাড়া দেয়া, চুরি, ভাড়াতে কিলার হিসেবে নানান অপরাধ করে আসছে।ইতিপূর্বে এলাকায় কয়েকটি দোকান ডাকাতি করে ধৃত হয়ে কেউ কেউ কারাভোগ করে জামিনে এসে পূনরায় অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছালেক, সাবের,নুরুল হকের ডাকাত চক্রটি এতই বেপরোয়া কেউ মুখ খোলার সাহস করে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর চলে নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন। ফলে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেয়ে একবুক হতাশা নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছে স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, এ ডাকাত সিন্ডিকেটে সরাসরি জড়িত রয়েছে নুরুল হকের খালাতো ভাই আইয়ুব আলী প্রকাশ বতল, ছালেকর আপন ছোট ভাই বাবু, একই এলাকার হাবিবের ছেলে রুবেল, ফারুকসহ বেশ কয়েকজন। স্থানীয় সচেতন মহল, এসব ডাকাতদের দ্রুত আটক পূর্বক আইনের আওতায় আনতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদার জানান,গণডাকাতির ঘটনায় ইতিপূর্বে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। কারা কারা ঘটনায় জড়িত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান চলমান রেখেছে।