সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার নিয়ে সংকট আছে বলে আমি মনে করি না।’
‘কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল—যে সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছে, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলাতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে,’ বলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শাহে আলম জানান,ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ বিভাগ এবং বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশাল জেলায় সারের সংকট হয়নি। ‘মাত্র এই ১০ থেকে ১১টি জেলায় সারের সংকট,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, জনগণের সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের দলের রাজনৈতিক কর্মীর দ্বারা হইচই করিয়ে এই কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বিদ্যমান ডিলারের বাইরে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিলারের নিয়োগ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে তার নির্বাচনী এলাকায় যাতে সারের সংকট না থাকে, সে জন্য তিনি নিজে দেখভাল করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলম বলেন, ‘প্রয়োজনে নিজে ডিলারদের গোডাউন চেক করব যে তারা মজুত রেখেছে কি না বা জনগণকে দিচ্ছে কি না?’
বিরোধীদলের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণের জন্য যে সুন্দর সুন্দর কর্মসূচিগুলো মাঠে নিয়ে আসছে, এই কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ও বাইরের কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য অহেতুকভাবে, কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া তারা এই কর্মসূচিগুলো নিচ্ছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে শাহে আলম বলেন, ‘তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। কারণ তেল ভারতে পাচার হয়ে যেত। তাও ভারতের সমান হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা ঘোষণা দিয়েছি, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কমে গেলে আমরাও সমন্বয় করে তেলের মূল্য আবার কমিয়ে দেবো।’
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ে সরকারকে সময় দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময় বিদ্যুতের যে অব্যবস্থাপনা ছিল, সেই অব্যবস্থাপনার পর আমরা এটা হাতে পেয়েছি। আমাদেরকে সব কিছুর জন্যই সময় দিতে হবে।’
‘একটা সরকারের ছয় মাসের মেয়াদে…একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি, একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নেওয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো দায়পার করেছে, সময় পার করেছে, তারা দেশের জন্য কোনো কাজ করেনি। এ রকম একটি সরকার ছয় মাসে এসে…এই যে কয়দিন আগে ১১ দলীয় জোট—ফুটবল টিম বা ক্রিকেট টিম যেটাই বলি, তারা যে রংপুরে এসে লংমার্চ করে গেল, এখান থেকে কী প্রাপ্তি হলো?’ প্রশ্ন রাখেন শাহে আলম।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলে তেলের ক্রাইসিস; তেলের ক্রাইসিস হলে আপনাদের বহরে যদি দুই হাজার গাড়ি থাকে, এই গাড়ি তেল কোথায় পেল? আপনারা তো তেল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে লংমার্চে আসছেন।’
লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের সমাধান হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বড় লংমার্চ করতেন বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে বার্তা নিয়ে এসেছেন জানিয়ে শাহে আলম বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের এই বাড়িতে ঘর নির্মাণ, তাদের বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য আমি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ঘোষণা করছি।’
সূত্র: স্টার অনলাইন রিপোর্ট
টিটিএন ডেস্ক: 























