ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পবিত্র শবে বরাত পালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠে নৌবাহিনী প্রধান:কুতুবদিয়া পরিদর্শন এদেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে – সালাহউদ্দিন আহমদ নারী অধিকার নিয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম নির্বাচনকে সামনে রেখে খুরুশকুল ব্রিজ এলাকায় বিজিবির তল্লাশি কার্যক্রম। সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমদের উখিয়া সফর: প্রচারণা বন্ধের ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারীর ১৭ মিনিটের ব্যবধানে ২ ভূমিকম্প! পেকুয়ায় তিন ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার বিজিবি ক্যাম্প চৌধুরী পাড়ার হাসান আলী আর নেই : জানাজা বুধবার কক্সবাজারে ৫.৯ মাত্রার ভূকম্পন: উৎপত্তিস্থল ইয়াংগুন পালংখালীতে ৩ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান কক্সবাজার-৩ আসনের জনগনকে পবিত্র শবে বরাতের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লুৎফর রহমান কাজল গ্যাসের জন্যে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীর উপর তুলে দিলো মারছা বাস,নিহত খুরুশকুলের মুজিব সাদিক কায়েমকে ‘বেয়াদব’ বলায় এনসিপির আইনজীবীনেতা নাজমুস সাকিবকে অব্যাহতি

নারী অধিকার নিয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হলে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে তোলা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই জোটের অন্যতম প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, সমালোচনা রয়েছে যে, জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে উদ্বেগের সমাধান আপনি কীভাবে করবেন?

উত্তরে এনসিপি নেতা ও ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটটি এখনও একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে, এটি ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে, আমাদের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং বলেছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তি এবং এমনকি একটি জাতীয় সরকার সম্পর্কেও কথা বলছে। তবে, যদি আমাদের মূল অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হয়, তাহলে জোটটি টিকবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত জানিয়েছে, তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। যদি একটি জোট সরকার গঠিত হয়, তবে তারা রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে না। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তারা। নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যাগুলো অবশ্যই সমাধান করা হবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির মূল অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জোটের অংশ হিসেবে আমরা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন জিতবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, কারণ আমাদের পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই এবং আমাদের দলটি একটি নতুন দল। তবে, আমরা আশাবাদী এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।

এই জোট কি কেবল নির্বাচনী, নাকি এর কোনো আদর্শিক ভিত্তি আছে– এমন পশ্নে তিনি বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনের জন্য, যার মধ্যে আসনভিত্তিক সমন্বয় জড়িত। তবে, আমাদের কিছু সাধারণ বিষয় রয়েছে। একটি প্রধান এজেন্ডা হলো বিপ্লবের পরে সংস্কার। এর জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং একটি গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে আমরা যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একটি। দ্বিতীয়টি হলো দুর্নীতি বিরোধী এবং সুশাসন। আরেকটি হলো সার্বভৌমত্ব এবং আধিপত্যের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছ থেকে। আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্র নীতি চাই।

ভারতের সাথে ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন– এ প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতকে তার বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাওয়া আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রায় দেওয়া হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয় তবে সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায়, সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কিছু লোক দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ত্যাগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে। আমরা তাদের পছন্দকে সম্মান করি এবং এখনও তাদের স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা গৃহীত একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং বেশিরভাগ সদস্য এটিকে সমর্থন করেন।

জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একক দল গঠন করার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কেউ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে চান, তাহলে তারা তা করতে পারেন।

 

সূত্র:ইনডিপেনডেন্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র শবে বরাত পালিত

This will close in 6 seconds

নারী অধিকার নিয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হলে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে তোলা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই জোটের অন্যতম প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, সমালোচনা রয়েছে যে, জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে উদ্বেগের সমাধান আপনি কীভাবে করবেন?

উত্তরে এনসিপি নেতা ও ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটটি এখনও একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে, এটি ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে, আমাদের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং বলেছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তি এবং এমনকি একটি জাতীয় সরকার সম্পর্কেও কথা বলছে। তবে, যদি আমাদের মূল অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হয়, তাহলে জোটটি টিকবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত জানিয়েছে, তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। যদি একটি জোট সরকার গঠিত হয়, তবে তারা রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে না। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তারা। নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যাগুলো অবশ্যই সমাধান করা হবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির মূল অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জোটের অংশ হিসেবে আমরা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন জিতবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, কারণ আমাদের পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই এবং আমাদের দলটি একটি নতুন দল। তবে, আমরা আশাবাদী এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।

এই জোট কি কেবল নির্বাচনী, নাকি এর কোনো আদর্শিক ভিত্তি আছে– এমন পশ্নে তিনি বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনের জন্য, যার মধ্যে আসনভিত্তিক সমন্বয় জড়িত। তবে, আমাদের কিছু সাধারণ বিষয় রয়েছে। একটি প্রধান এজেন্ডা হলো বিপ্লবের পরে সংস্কার। এর জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং একটি গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে আমরা যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একটি। দ্বিতীয়টি হলো দুর্নীতি বিরোধী এবং সুশাসন। আরেকটি হলো সার্বভৌমত্ব এবং আধিপত্যের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছ থেকে। আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্র নীতি চাই।

ভারতের সাথে ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন– এ প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতকে তার বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাওয়া আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রায় দেওয়া হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয় তবে সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায়, সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কিছু লোক দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ত্যাগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে। আমরা তাদের পছন্দকে সম্মান করি এবং এখনও তাদের স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা গৃহীত একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং বেশিরভাগ সদস্য এটিকে সমর্থন করেন।

জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একক দল গঠন করার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কেউ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে চান, তাহলে তারা তা করতে পারেন।

 

সূত্র:ইনডিপেনডেন্ট