বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার সাথে সমন্বয় সভা করেন।
২৬ জানুয়ারি রাতে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বিজিবি মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবি সহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, বিজিবি,আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিয়নের সকল পর্যায়ের অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিজিবি মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। ভোটারগণ যেন নিরাপদ, শান্তি পূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখেই সারা দেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় STX অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্ত, পেশাদার ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি’র হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF), র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড, ড্রোন এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। পাশাপাশি মায়ানমারের সাথে দীর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
টিটিএন ডেস্ক: 





















