কক্সবাজারে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালের অঘটনের প্রায় এক বছর পর ফিরেছে আবারও ফুটবলের উন্মাদনা ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২৬) বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে খেলোয়াড় সমিতির আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মাঠে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। উদ্বোধনী ম্যাচেই টাইব্রেকারে স্বাগতিক কক্সবাজার সদর উপজেলা দলকে ৭-৬ গোলে হারিয়েছে চকরিয়া উপজেলা খেলোয়াড় সমিতি।
‘আসুন খেলুন, সুস্থ থাকি—মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয় বিকেল ৩টায়। ম্যাচ ঘিরে দুপুরের পর থেকেই স্টেডিয়াম এলাকায় দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। গ্যালারিতে ছিল হাজারো দর্শকের উপস্থিতি। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফুটবল ফেরায় দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
চকরিয়া দলের হয়ে মাঠে নামেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় আনিসুর রহমান জিকু, সুশান্ত, ইব্রাহিমসহ পরিচিত কয়েকজন ফুটবলার। তবে ম্যাচে তাঁরা প্রত্যাশিত দাপট দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামে সদর উপজেলা দল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। তবে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম পাঁচটি করে শটে দুই দলের ফল দাঁড়ায় ৪-৪। দুই দলের গোলরক্ষকই একটি করে শট ঠেকান। এরপর সাডেন ডেথে সদর উপজেলার এক খেলোয়াড় শট মিস করলে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করে চকরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৭-৬ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চকরিয়া উপজেলা খেলোয়াড় সমিতি।
ভালো খেলেও উদ্বোধনী ম্যাচেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় স্বাগতিক কক্সবাজার সদর উপজেলা দলকে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান। খেলা শেষে তাঁরা কক্সবাজারের ফুটবলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে খেলোয়াড়, সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আয়োজকেরা জানান, গত বছরের ঘটনার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের টুর্নামেন্টে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠ ও গ্যালারিতে দায়িত্ব পালন করছেন আয়োজক কমিটির দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
দর্শকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গ্যালারির ধারণক্ষমতার তুলনায় কমসংখ্যক টিকিট ছাপানো হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। ৫০ টাকা মূল্যের টিকিটে দর্শকেরা গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছেন।
নকআউট পদ্ধতির এ টুর্নামেন্টে কক্সবাজার জেলার ১০টি উপজেলা-কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, মাতামুহুরি, মহেশখালী, ঈদগাঁও, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি দলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিনজন অতিথি খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) একই মাঠে টেকনাফ উপজেলা খেলোয়াড় সমিতি ও পেকুয়া উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির মধ্যে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকেরা জানান, প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ট্রফি, মেডেল ও ৩০ হাজার টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ট্রফি, মেডেল ও ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা গোলরক্ষকের জন্যও থাকছে পুরস্কার।
কক্সবাজারের সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারদের অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 





















