ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ২২ কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শোয়াইব, সদস্য সচিব তারেক দাপ্তারিক চিঠিপত্রে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ বাদের সিদ্ধান্ত মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট চকরিয়ায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ: পারভেজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর ফায়ারিং মহড়ায় দুই সৈনিক নিহত ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য আটক, পরিচয় জানতেন না বাদী এবং ওসি, এপিবিএন অধিনায়ক বললেন জঘন্য কাজ পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস পলাতক আসামিদের ফেরাতে সরকার গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ দশকেরও বেশী সময় পর রামুর হাতে শিরোপা টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার

ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড

  • রাহুল মহাজন:
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 466

ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে রাশেদা বেগম ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক বাদী হয়ে আবুল কালাম, আবু তাহের, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. এম কুতুব উদ্দিনের জানান মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি আবুল কালাম গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাদীর নারাজির পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই অধিকতর তদন্ত করে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ জন এবং আসামিপক্ষের ২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্ত ও নিহতরা পরস্পরের আত্মীয় হলেও নিজ বাড়ির উঠানে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে স্ত্রী ও মেয়ের হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে,এটাই তার প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ২২

ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে রাশেদা বেগম ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক বাদী হয়ে আবুল কালাম, আবু তাহের, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. এম কুতুব উদ্দিনের জানান মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি আবুল কালাম গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাদীর নারাজির পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই অধিকতর তদন্ত করে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ জন এবং আসামিপক্ষের ২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্ত ও নিহতরা পরস্পরের আত্মীয় হলেও নিজ বাড়ির উঠানে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে স্ত্রী ও মেয়ের হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে,এটাই তার প্রত্যাশা।