ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’ আগেচার-পাঁচ মাসের ম‌ন্ত্রিত্বের অ‌ভিজ্ঞতায় দে‌খে‌ছি, কিছুই বদলায়নি: মির্জা ফখরুল রামুতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড পেকুয়ায় আগুনে পুড়লো পাঁচ ভাইয়ের বসতঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া ও মাতামুহুরির ২০০ পরিবারের পাশে উইটনেস ফাউন্ডেশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন ইনানীর বে-ওয়াচ রিসোর্টের কর্মচারী আব্দুল আজিজের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য: কি বলছে পুলিশ? অপহরণ-মানবপাচার বন্ধে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে টেকনাফ-উখিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী তিন প্রতিবন্ধীকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী গভীর নিম্নচাপ: ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত, উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা জাতীয় উশুতে রৌপ্য জিতল কক্সবাজারের আশ্রম শিক্ষার্থী সুমন্ত

ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড

  • রাহুল মহাজন:
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 103

ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে রাশেদা বেগম ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক বাদী হয়ে আবুল কালাম, আবু তাহের, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. এম কুতুব উদ্দিনের জানান মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি আবুল কালাম গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাদীর নারাজির পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই অধিকতর তদন্ত করে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ জন এবং আসামিপক্ষের ২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্ত ও নিহতরা পরস্পরের আত্মীয় হলেও নিজ বাড়ির উঠানে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে স্ত্রী ও মেয়ের হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে,এটাই তার প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’

ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে রাশেদা বেগম ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক বাদী হয়ে আবুল কালাম, আবু তাহের, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. এম কুতুব উদ্দিনের জানান মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি আবুল কালাম গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাদীর নারাজির পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই অধিকতর তদন্ত করে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ জন এবং আসামিপক্ষের ২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্ত ও নিহতরা পরস্পরের আত্মীয় হলেও নিজ বাড়ির উঠানে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত আসামি আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও নিহত রাশেদা বেগমের স্বামী আজিজুল হক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে স্ত্রী ও মেয়ের হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে,এটাই তার প্রত্যাশা।