ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।